মব সৃষ্টির অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)–এর প্রধান কার্যালয়ে বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কর্মকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে হাতাহাতি, স্লোগান ও অবরোধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেলুজ্জামানের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ডক-২ এ বদলি আদেশ বাতিলের দাবিতে একটি পক্ষ চেয়ারম্যানের দপ্তরে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সিপিও মানসুরা আহমেদ ও রুবেলুজ্জামানের নেতৃত্বে কয়েকজন চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় সিবিএ নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে আরেক দফা উত্তেজনা তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি বোর্ডরুমে কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বদলি আদেশে স্বাক্ষরের জন্য চেয়ারম্যানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কর্মকর্তাদের একাংশ জানিয়েছেন, তারা চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ মতবিনিময়ে বসলে হঠাৎ করে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নারী কর্মকর্তাদের সঙ্গেও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ইউনিয়ন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, বদলি আদেশ নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে সিবিএ নেতাকর্মীরা সিপিও মানসুরা আহমেদ ও রুবেলুজ্জামানের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অভিযোগে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে।
টানা উত্তেজনার কারণে প্রধান কার্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমাধানের পথে আলোচনার আহ্বান
এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, পারস্পরিক দোষারোপ ও কর্মসূচির পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান জরুরি হয়ে উঠেছে। দ্রুত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কর্মকর্তা, ইউনিয়ন প্রতিনিধি ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ বৈঠক ও সমন্বয় কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে।
কমিটির মাধ্যমে বদলি আদেশের যৌক্তিকতা যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ এড়াতে একটি সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। অপরদিকে ইউনিয়ন নেতারা মনে করছেন, কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করলে উত্তেজনা কমবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি বন্ধ হয়ে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরে আসবে। অন্যথায় চলমান সংকট প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও সেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






