ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল ইসলাম। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের পর অবশিষ্ট ৭৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।
জানা যায়, ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সামিউল ইসলাম সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর তদারকি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার প্রান্তিক কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সরকারের এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল ইসলাম।
প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, কাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে কাজ শেষ হওয়ার পর ৭৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় সিনাই নদী ৬ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। এ কাজে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। পাশাপাশি নদীর দুই তীরে ৩ হাজার ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে।
এছাড়া জিয়াখাল ৪ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। খালের দুই পাশে ২ হাজার ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
পুরো প্রকল্পের তদারকিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাগ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন।
খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় কৃষকরা তিন ফসল উৎপাদনের ব্যাপারে আশাবাদী। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এত বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা কসবায় আগে দেখা যায়নি। ইউএনও সামিউল ইসলাম দেখিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। তাঁর এই উদ্যোগ অন্য কর্মকর্তাদের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।”
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, “খাল পুনঃখননের ফলে জমিতে সেচের সুবিধা বাড়বে, পানি সংরক্ষণ সহজ হবে এবং তিন ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে তা কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।”
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সুশাসনের অন্যতম পূর্বশর্ত। তারা বলেন, “জনগণের করের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা এবং উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নৈতিকতারও পরিচয় বহন করে। কসবা উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।”
তারা আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদেরও স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ধরনের চর্চা অব্যাহত থাকলে জনগণ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি রাষ্ট্রের অর্থও সাশ্রয় হবে।”
Home » স্বচ্ছতা ও সততার অনন্য দৃষ্টান্ত: ৭৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিলেন কসবার ইউএনও






