আইন-আদালত

কৃষিজমিতে বালুর পাহাড়, কসবায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের হানা—আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

কৃষিজমি দখল করে অবৈধ বালু মজুদ, পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী—১৫ দিনের মধ্যে বালু সরানোর কঠোর নির্দেশ প্রশাসনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু মজুদ করে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে তিনজনকে মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে মজুদ করা বালু আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরিয়ে কৃষিজমি উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কালামুড়িয়া এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কসবা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল কবির।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে কালামুড়িয়া এলাকায় কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু মজুদ এবং এর ফলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

 

অভিযানে বালু মজুদ করে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে মো. আনোয়ার (৪০), পিতা মৃত রাজা মিয়া, লেশিয়ারা, কুটি; মো. জসীমউদ্দিন (৪২), পিতা মৃত হিরন মিয়া, লেশিয়ারা, কুটি এবং মো. হানিফ (৩৮), পিতা সাহেব আলী, কালামুড়িয়া, কুটি—এই তিনজনকে পৃথক তিনটি মামলায় মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

 

অভিযানকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে বালু স্তূপ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগে থেকে মজুদ করা বালু আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরিয়ে কৃষিজমি উন্মুক্ত রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমিতে বালু মজুদের কারণে এলাকায় ধুলাবালু ও পরিবেশ দূষণের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বালুবাহী যানবাহন চলাচল ও বালু পরিবহনের কারণে ঘরবাড়িতে ধুলাবালু ঢুকে পড়ায় জনজীবনে ভোগান্তি বেড়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে বালুর স্তূপ করে রাখায় চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

প্রশাসনের অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, শুধু জরিমানা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বালু সরিয়ে কৃষিজমি চাষাবাদের উপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কৃষিজমিতে বালু মজুদ করা না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

 

কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন কৃষিজমি বালু দিয়ে ঢেকে রাখলে জমির উর্বরতা ও চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বালু সরানোর পর জমির মাটির অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হবে।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কৃষিজমিতে বালু মজুদ করে ধুলাবালু ছড়ানো, পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা প্রশাসনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরিবেশ দূষণমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস মানুষের অধিকার। কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু মজুদ করে মানুষের চলাচল, বসবাস ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করা হলে তা বন্ধ করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমানো, কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

 

কসবা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল কবির বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বালু মজুদের কারণে বসবাসকারী ও যাতায়াতকারী মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল। এ অপরাধে তিনজনকে মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নতুন করে বালু স্তূপ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মজুদ করা বালু ১৫ দিনের মধ্যে সরিয়ে কৃষিজমি উন্মুক্ত রাখতে বলা হয়েছে।

 

প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বালু অপসারণ, কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে অবৈধভাবে বালু মজুদ বন্ধে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply