দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের চম্পাতলী মণ্ডলপাড়া গ্রামে জমি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাবা ও সৎ ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই ছেলে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা, শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন দুলু মিয়া (৭০) এবং তার ছেলে কাবিল (৩০)। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্ত সাদিকুল ইসলাম (৩২) ও সাকিবুল (১৯) তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা যায়।
ঘটনাটি ঘটে ১২ মে (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে।
চিরিরবন্দর থানার ওসি বলেন, “ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি, তবে দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ গ্রামীণ সমাজে উদ্বেগজনক হারে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, যা প্রতিরোধে দ্রুত সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার অভাব এবং সামাজিক অস্থিরতা এমন নৃশংস ঘটনার পেছনে কাজ করছে। তারা স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পারিবারিক বিরোধ কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য নয়। তারা এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ—সামান্য জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে চম্পাতলী মণ্ডলপাড়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আসামিরা বিচারের মুখোমুখি হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।






