Uncategorized

গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বাইসসের উদ্যোগ: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে গণজাগরণের ডাক

গ্রামীণ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইসস) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিস্তৃত কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা ও গণজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাইসসের প্রধান সমন্বয়কারী ও মুখপাত্র গোলাম সারওয়ার মিলন বলেন, সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশের পল্লী প্রান্তরের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই বাইসসের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ গ্রামীণ অর্থনীতির চেহারা বদলে দিয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে, আর উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, মৌমাছি যেমন ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে, তেমনি তৃণমূলের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশব্যাপী তরুণ-তরুণীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী গণজাগরণ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংগঠনের চেয়ারম্যান লে. জে. অব ড. চৌধুরী হাসান সরওয়ার্দী, বীরবিক্রম বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর। বর্তমানে প্রায় ৫৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বিশাল শক্তিকে সংগঠিত ও দক্ষ করে তুলতেই ২০২৬ সালে বাইসসের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠী ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিক সেবা পেয়ে থাকে। কৃষি উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের ভূমিকা অপরিসীম। যেহেতু তারা নিজ নিজ এলাকার আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে সরাসরি অবগত, তাই তাদের মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালালে উল্লেখযোগ্য বিজয় অর্জন সম্ভব হবে।
বাইসসের মহাসচিব মুহাম্মদ শাহজাহান সম্রাট বলেন, দেশের ৪,৫৭৯টি ইউনিয়ন পরিষদের ৫৪,৯৪৮ জন নারী-পুরুষ সদস্য তৃণমূল সমাজ ব্যবস্থাপনায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছেন, কিন্তু সেই ভূমিকা সবসময় যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। বাইসস সেই শূন্যতা পূরণে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পতিত জমির ব্যবহার, খাদ্য নিরাপত্তা, গবাদিপশু ও মৎস্য খাত উন্নয়ন, এগ্রোফার্ম বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইসস দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় “গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন” শীর্ষক সেমিনার ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীন সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের এই গণভোট প্রচারণায় সহযোগী শক্তি হিসেবে যুক্ত করতে পারে। জাতীয় কল্যাণ ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাইসস ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সম্ভাব্য সুবিধাসমূহ গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়বে, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানিযোগ্য উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে, তরুণ-তরুণীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গণজাগরণ জোরদার হবে, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় গণমানুষের ঐক্য প্রতিফলিত হবে,

Leave a Reply