সাংবাদিকতার তত্ত্ব কথায় ‘হোয়াইট কলার জব’ (A white-collar job) বলে একটি আলোচনা আছে। তাতে বিভিন্ন তাত্ত্বিক, পেশাদার সাংবাদিক ও গবেষক বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, সাংবাদিকতা কোনো অবস্থাতেই ‘হোয়াইট কলার জব’ নয়।
মানে সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়রন করা পরিপাটি শার্ট পরে অফিসে যাওয়া, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আরাম কেদারায় কাজ করা একজন প্রতিবেদকের নিত্যদিনের দায়িত্ব নয়। বরং এর বিপরীতে দুর্যোগ, দুর্বিপাক, যুদ্ধ, দাঙ্গা, সংঘাতসহ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রতিনিয়ত তথ্য, ভিডিও এবং ছবি সংগ্রহ করাই একজন পেশাদার সাংবাদিকের কাজ।
যে কাজে পদে পদে থাকতে পারে মৃত্যু ঝুঁকি। কিন্তু তারপরও পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে, মানুষকে তথ্য জানানোর নেশা থেকে, মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ব্রত থেকে সংবাদকর্মীরা প্রতিদিন মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে বিপদসংকুল এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।
বুলেট-বন্দুক-বোমার আঘাতে প্রাণও হারাচ্ছেন অকাতরে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রাণ বিসর্জনের এই মহতী মৃত্যুযাত্রায় নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন গাজার সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (Committee to Protect Journalists)-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগে এত সাংবাদিক কোনো সংঘাতে প্রাণ হারাননি। বর্বর ইসরায়েলের নিষ্ঠুর আক্রমণের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এখনো পর্যন্ত এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৫ জন সংবাদকর্মী, যাদের মধ্যে ১৬৭ জন ফিলিস্তিনি, ৬ জন লেবানিজ ও ২ জন ইসরায়েলি।






