জাতীয়

নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এনসিপি নেতারা

শেখ হাসিনার পতন ঘটানো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নেতাদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গণপরিষদ গঠনের কথা বললেও দলের ৩৫ নেতা আসন গোছাচ্ছেন। এনসিপির প্রতি সহানুভূতি বাড়বে– এমন আশায় ভোটের মাঠে বাধা-হামলা ইতিবাচক হিসেবেই নিচ্ছেন তারা। গাড়িবহর নিয়ে শোডাউনের মতো পুরোনো ধাঁচের রাজনীতির সমালোচনা হলেও তারা তা গায়ে মাখছেন না।

এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, দলটির কয়েক নেতা রাজনৈতিক পরিবারের হওয়ায় নির্বাচনী এলাকায় আগে থেকেই তাদের ভালো অবস্থান রয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সামনের সারির নেতারা দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়ায় এলাকায় প্রভাব তৈরি হয়েছে। আবার অনেকে আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজে যুক্ত থাকায় কিছুটা পরিচিতি রয়েছে। এই তিন শ্রেণি ছাড়াও এনসিপির জেলা ও উপজেলা নেতৃত্বে আসতে চান– এমন অনেকেও নির্বাচনে আগ্রহী।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। কমিটির সবাই নির্বাচনে লড়বেন না। এনসিপির ভাবনায় রয়েছে– নির্বাচন ঘনিয়ে এলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী জনপ্রিয় নেতাদের দলে ভিড়িয়ে প্রার্থী করা।

সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, অনেকেই স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য, সম্মানিত। ফ্যাসিবাদবিরোধী ভূমিকায় ছিলেন যেসব মানুষ, তারা যুক্ত হবেন এনসিপিতে। সিনিয়র সিটিজেনরাও যুক্ত হবেন। অনেকেরই নিজ নিজ এলাকায় জনসমর্থন রয়েছে। এখনও সারাদেশে এনসিপি বিস্তৃত নয়। বিস্তৃতি ঘটলে আরও অনেকে যুক্ত হবেন। বিচার ও সংস্কার শেষে তাদের সবাইকে নিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়বে এনসিপি।

অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের কয়েকজন রাজধানী ঢাকায় নির্বাচন করবেন। এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নিতে সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে আসা নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ (রামপুরা-বনশ্রী) আসনে নির্বাচন করতে পারেন। তিনি এলাকায় সময় দিচ্ছেন।

সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি হাতিয়া দ্বীপে ফেরিঘাট চালু, ভূমিহীনদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া, নদীভাঙন নিয়ে গ্রামে গ্রামে গণশুনানি কর্মসূচি করেছেন। গত সোমবার তিনি হামলার শিকার হন। বিএনপি নেতাকর্মী মাসউদকেও মারধর করেন।

এনসিপি নেতারা বলছেন, বিএনপি এনসিপিকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছে বলেই এমন হামলা হচ্ছে, যা এখনও নিবন্ধন না পাওয়া নবগঠিত এনসিপির জন্য ইতিবাচক। হামলা হওয়ায় জনসহানুভূতি পাবেন মাসউদ। একজন যুগ্ম আহ্বায়ক সমকালকে বলেন, বিএনপি যার ওপরই হামলা করবে, তিনি এলাকায় বড় নেতা হবেন।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে প্রার্থী হতে চান। গত সোমবার তিনি গাড়িবহর নিয়ে এলাকায় শোডাউন করেন। এর সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তিনি বলেছেন, ‘যারা ১০০ গাড়ি নিয়ে ইলেকশন ক্যাম্পেইন করতে যায়, তারা কী করবে, সেটা আমরা ভালো বুঝি।’

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সমকালকে বলেন, ৩০০ আসনে প্রতিদিন বিএনপির অন্তত ৬০০ নেতা শোডাউন করছেন। বিএনপি শোডাউনের রাজনীতি বন্ধ করুক। এনসিপিও শোডাউনের রাজনীতি চায় না। স্থানীয়রা এতদিন যেভাবে দেখেছেন, প্রার্থী তাদের কাছে সেভাবে আসবেন বলে প্রত্যাশা করেন। এনসিপি নেতারা কোথাও শক্তি দেখাতে যাননি, মানুষের কথা শুনছেন। রাজনীতিতে নতুন হিসেবে মানুষের কথা শোনাই এনসিপির রাজনীতি।

আরেক মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁকে এলাকায় নিয়মিত সভা ও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায়। অভ্যুত্থানের প্রথম সারির নেতা হিসেবে তিনি কিছু শক্ত অবস্থানে থাকবেন।

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে আগে শোনা গেলেও এনসিপির সূত্র জানিয়েছে, তাঁকে ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থী করা হতে পারে। সামান্তা শারমিন সমকালকে বলেন, নির্বাচন করব কিনা, কোন আসন থেকে নির্বাচন করব– তা দল

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply