জাতীয়

নির্বাসন শেষে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

ঘড়ির কাঁটা এগোচ্ছে, অপেক্ষার প্রহর ছোট হয়ে আসছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই দেশের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন ও উত্তেজনা।

২০০৮ সালে দেশ ত্যাগ, ২০২৫ সালে প্রত্যাবর্তন
তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান। সে সময় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, মামলা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ১৭ বছর—প্রবাসে থেকেই তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে।
নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো রাজধানী
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা এখন কার্যত কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো। বিমানবন্দর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনসমাবেশের সম্ভাব্য এলাকা ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে প্রায় এক হাজারের বেশি এলইডি লাইট।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিটের সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছেন। সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট, যানবাহন তল্লাশি এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো রাজধানীজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত বা দলীয় ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর তার সরাসরি মাঠে নামা দেশের রাজনীতির গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যাপক প্রস্তুতি ও জনসমাগম
দলীয় সূত্র জানায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। ‘নেতা আসছে’—এই স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে রাজপথ। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
দলীয় নেতাদের প্রত্যাশা
বিএনপি নেতারা বলছেন, এই প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নতুন গতি আনবে এবং রাজনীতিতে ভারসাম্য ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংক্ষিপ্ত
২০০৭: গ্রেপ্তার ২০০৮ (৩ সেপ্টেম্বর): জামিনে মুক্তি
২০০৮ (১১ সেপ্টেম্বর): লন্ডনে গমন ২০২৫: ১৭ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তন
মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর যে দৃশ্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে লেখা হবে, তা শুধু একটি আগমন নয়—এটি প্রতীক্ষার অবসান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।

Leave a Reply