জাতীয়

স্বচ্ছ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিতে পাঁচ দফা সুপারিশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে পাঁচ দফা অগ্রাধিকারমূলক সুপারিশ করেছে ‘ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটি’। আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস কর্মকর্তাদের এ সংগঠন।

সংগঠনের সভাপতি ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার রাশেদুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন সদস্য–সচিব ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল আলম।

অতীতের তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) অগ্রহণযোগ্য হওয়ায় জাতি এখন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এ কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, এখন নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রয়োজন।

কমিটির পাঁচ দফা প্রধান সুপারিশ

১. প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন
৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে অনলাইন সিসিটিভি স্থাপনে আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা ব্যয়কে স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য যৌক্তিক বলে মন্তব্য করে কমিটি। দ্রুত ক্রয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীভূতভাবে সরাসরি ক্রয় (DPM) পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। নির্বাচনের পর স্কুল ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনেও এই ক্যামেরা ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।

২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডিক্যাম বাধ্যতামূলক করা
প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে দুইজন নিরাপত্তাকর্মীর শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা সংযোজনের দাবি জানানো হয়, যা নিরাপত্তা, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

৩. মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলি
ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন-পূর্ব লটারির মাধ্যমে বদলি এবং নির্বাচন শেষে ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্বদলি করার সুপারিশ করা হয়। নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে পুরস্কার ও ব্যর্থ হলে শাস্তির দাবি জানায় কমিটি।

৪. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান
তফসিল ঘোষণার আগেই অভিযান শুরু করে ভোটের আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়, যাতে কোনো পক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে।

৫. নির্বাচনী কর্তব্য পালনকারীদের সর্বোচ্চ সততা ও নৈতিকতা
সরকার, নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সকল প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর গণতন্ত্রের পথে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আর এ সুযোগ বাস্তবায়নে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই।

Leave a Reply