আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়ে নিজের বুক ও পিঠে লেখা স্লোগান— “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক”— নিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন তরুণ নূর হোসেন।
ঘটনাস্থল ছিল রাজধানীর গুলিস্তানের ঐতিহাসিক জিরো পয়েন্ট, যা এখন পরিচিত নূর হোসেন চত্বর নামে।
১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশের রাজপথ উত্তাল ছিল তৎকালীন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। ১৯৮৭ সালের নভেম্বরের শুরু থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকার পতনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করে। সে সময় ১০ নভেম্বর সকালে নূর হোসেন অংশ নেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলীয় জোটের মিছিলে।
তার পরনে ছিল নীল জিনস ও সাদা শার্ট— বুকের ওপর লাল রঙে লেখা “স্বৈরাচার নিপাত যাক”, পিঠে “গণতন্ত্র মুক্তি পাক”।
মিছিলটি যখন গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে পৌঁছায়, তখন পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন।
তাঁর মৃত্যু মুহূর্তেই আন্দোলনের আগুনকে আরও প্রজ্বলিত করে তোলে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শোক ও ক্ষোভের ঢেউ। নূর হোসেনের আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গতি বাড়িয়ে দেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদের পতনের মাধ্যমে।
আজও সেই তরুণের স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে নূর হোসেন চত্বর। এখানে নির্মিত হয়েছে একটি ছোট ভাস্কর্য ও স্মৃতিফলক, যেখানে প্রতি বছর ১০ নভেম্বর সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
তবে অনেকের মতে, চত্বরটির আরও উন্নয়ন ও স্থায়ী ভাস্কর্য নির্মাণ প্রয়োজন— যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে এক তরুণের বুকের রক্তে লেখা সেই চিরন্তন স্লোগানের ইতিহাস:
“স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।”






