চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচনের দাবিতে অনড় দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার (২৮ মে) আল্টিমেটাম দিয়ে সরকারকে অনেকটা চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।
অন্যদিকে সরকারও বার বার ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যেই নির্বাচনের কথা বলছে। সরকারের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই দায়বদ্ধতা শেষ করেই নির্বাচনে যাবেন তারা। সরকারের এমন ঘোষণাতে সমর্থনও রয়েছে জামায়াত, ইসলামপন্থি ও অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের দল এনসিপি’র।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির দাবি, সরকার নির্বাচন প্রলম্বিত করতে চায়। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো নির্বাচন ছাড়াই তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইছে। সংস্কার নির্বাচন প্রলম্বিত করার বাহানা ছাড়া আর কিছুই না। আর এজন্যই সরকার নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করছে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে জনমনে ধারণা, নির্বাচন কি আদৌ ডিসেম্বরে কিংবা সরকার ঘোষিত ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে? এছাড়া নির্বাচনের বাধা কোথায়?
বুধবার রাজধানী ঢাকায় তারুণ্যের সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে মনে হয় এরইমধ্যে টালবাহানা শুরু হয়েছে বা চলছে। কথিত অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। এরই ভেতরে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, সংস্কার নিয়ে সময়ক্ষেপণের আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে এবং বাইরে কারও কারও মনে হয় ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। ’
তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের কয়েকদিন আগেই সরকার এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, শত বাধার মাঝেও গোষ্ঠীস্বার্থকে উপেক্ষা করে অন্তর্বর্তী সরকার তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যদি পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের ওপর আরোপিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হয়, তবে সরকার সকল কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে। অর্পিত দায়িত্ব পালন করাকে অসম্ভব করে তুললে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের প্রেসবিজ্ঞপ্তির পর তারেক রহমানের বুধবারের কঠোর বক্তব্যে এখন মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নির্বাচনপন্থি দলসমূহ এবং সরকার ও সংস্কারের পক্ষে জামায়াত, ইসলামপন্থি ও এনসিপি।
জনমনেও প্রশ্ন জাগছে- তাহলে বিএনপি কি আবারও ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামবে? দেশ কী আবারও সংঘাতের রাজনীতিতে ফিরবে?






