ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ এনেছে। দুই বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে তার অভিবাসী মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা করা হলে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এই অভিযোগ তোলেন। ওই শিশুর মা-বাবাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হলেও শিশুটিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে একটি পালক পরিবারের কাছে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, শিশুটির বাবা-মা ভেনিজুয়েলার কুখ্যাত মাদকচক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র সদস্য।
মাদুরো তার সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেন, এ ঘটনা যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই একটি অপরাধ। শুধু অভিবাসী এবং ভেনিজুয়েলান হওয়ার কারণে এক মায়ের দুই বছরের শিশুকে কেড়ে নেওয়া অমানবিক কাজ।
তিনি আরো বলেন, বিনা প্রমাণে তাদের অপরাধী চক্রের সদস্য বলে অভিযুক্ত করা এবং এই অভিযোগকে অজুহাত বানিয়ে তার সন্তানকে কেড়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ।
সোমবার সকালে ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ দুই বছর বয়সী শিশু মাইকেলিস আন্তোনেলা এসপিনোসা বেরনালকে অপহরণ করেছে। শিশুটিকে অবিলম্বে তার পিতা-মাতার কাছে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ডিএইচএস অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। হাজার হাজার লাতিন আমেরিকান অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে এবং অনেকের আইনগত মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে।
তাদের দাবি—এদের মধ্যে অনেকেই অপরাধী গ্যাংয়ের সদস্য। তবে সেই অভিযোগের পক্ষে খুব সামান্য প্রমাণই প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। অনেক আইনজীবী ও পরিবারের দাবি, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ডিএইচএস জানায়নি শিশুটির মা-বাবাকে কোথায় পাঠানো হয়েছে, তবে ভেনিজুয়েলার বিশ্বাস—শিশুটির পিতা ২৫০ জন পুরুষের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন, যাদের এল সালভাদরের কুখ্যাত সিইসিওটি কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানায়, শিশুটির বাবা ‘ট্রেন দে আরাগুয়ার একজন লেফটেন্যান্ট।
যিনি খুন, মাদক বিক্রি, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শিশুটির মা মাদক পাচার এবং পতিতাবৃত্তির জন্য তরুণীদের নিয়োগের দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ তোলে ডিএইচএস।
ডিএইচএস আরো জানায়, শিশুটিকে তার নিরাপত্তা ও কল্যাণের স্বার্থে বহিষ্কারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তরের অধীনে একটি পালক পরিবারের কাছে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ট্রেন দে আরাগুয়াকে একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।






