আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানেনি, স্বীকার করল মধ্যস্থতাকারী কাতার

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন কাতারের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ আল-খুলাইফি। ইসরায়েল এক মাস আগে আবারও গাজায় হামলা শুরুর পর সর্বশেষ আলোচনা পর্বটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।

শুক্রবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-খুলাইফি বলেন, আলোচনার প্রক্রিয়াটি মাঝে মাঝে অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের হতাশ করছে। এটা একটি জরুরি বিষয়।

যদি সামরিক অভিযান প্রতিদিন চলতে থাকে, তাহলে এখানে মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সঙ্গে কাতার গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করিয়েছিল, যা ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হয় এবং এর ফলে প্রায় এক বছরের যুদ্ধ মূলত বন্ধ হয়। যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে।

যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক পর্যায়টি মার্চের শুরুতে শেষ হয়।

কারণ এরপর দুই পক্ষই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে একমত হতে পারেনি। হামাস জানায়, তারা জানুয়ারির কাঠামোর আলোকে একটি স্থায়ী যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়া দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা চায়। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রথম পর্যায়টি বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও ১৮ মার্চ আবার গাজাজুড়ে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে। তার আগে তারা সহায়তা প্রবেশও বন্ধ করে দেয়।

হামাস বৃহস্পতিবার রাতে জানায়, তারা ইসরায়েলের সর্বশেষ ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। ইসরায়েল ওই সময়ের মধ্যে হামাসের হাতে থাকা ১০ জীবিত জিম্মির মুক্তি চেয়েছিল।

শব্দের আওয়াজ
কাতারের এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে দুই পক্ষ আবার আলোচনা টেবিলে ফিরে আসে এবং তারা যে চুক্তি একসময় মেনে নিয়েছিল তা আবার সক্রিয় হয়। এই কঠিন বাস্তবতা সত্ত্বেও আমরা আমাদের অঙ্গীকারে অটল থাকব।

দীর্ঘ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় কাতার ইসরায়েল ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি সমালোচনার শিকার হয়েছে।

নেতানিয়াহুর অন্তত দুই উপদেষ্টা কাতার সরকারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে দোহাকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে লাভবান করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন এবং এ নিয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। কাতার এই অভিযোগকে ‘কলঙ্ক রচনার প্রচেষ্টা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

চলতি মার্চ মাসে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা একটি তদন্তে দাবি করে, কাতারের অর্থায়ন হামাসের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। কাতার এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে খারিজ করেছে।

আল-খুলাইফি বলেন, আমরা আমাদের (আলোচনায়) জড়িত থাকার শুরু থেকেই এ ধরনের সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্য পেয়ে আসছি। নেতানিয়াহুর কাছ থেকে আমরা যেসব সমালোচনা শুনে থাকি, সেগুলোর বেশির ভাগই প্রসঙ্গহীন এবং কেবল শব্দের আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই নয়।

নেতানিয়াহু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টান ইভানজেলিক্যাল চ্যানেল ‘ডেস্টারে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, কাতার নাকি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে ‘যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ইহুদিবিরোধী’ প্রচার চালিয়েছে—এ দাবিও নাকচ করেছেন আল-খুলাইফি।

কাতারি এই কর্মকর্তা আরো বলেন, কাতারের শিক্ষা খাতে অংশগ্রহণ নিয়ে নেতানিয়াহুর দাবি বহুবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমরা যা কিছু করি তা পুরোপুরি স্বচ্ছ।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply