দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে মোটরসাইকেলযোগে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। একই সাথে ছিনতাইকৃত সোনা রূপান্তর করে বানানো একাধিক স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১ টা ৫১ ঘটিকায় কোতয়ালী থানাধীন মির্জাপুর বিআরটিসি বাস ডিপো সংলগ্ন অর্পণা ছাত্রীনিবাসের মেইন গেইটের সামনে বেলী রানী (২২) নামের এক তরুণীর গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। চক্রটি মোটরসাইকেলে এসে প্রকাশ্যে তার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও চিত্র ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয়। ঘটনার পর ভিকটিম বেলী রানী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবি পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএম-এর নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস টিম ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টায় চিরিরবন্দর থানার কাঁউগা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল ছিনতাইকারী আজমীর আহমেদ সোহেল ওরফে ‘পিচ্চি সোহেল’ (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত পিচ্চি সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২ টায় বিরামপুর থানা এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ছিনতাইয়ের সহযোগী মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব (৩৩)-কে গ্রেফতার করা হয় এবং ছিনতাইকৃত স্বর্ণ দিয়ে নতুনভাবে তৈরি ৬টি নাকফুল, ২টি কানের দুল ও ২টি কানের রিং উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত অপর আসামি মোঃ মুন্না (৪০)-কে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
অভিযান শেষে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম। প্রেস ব্রিফিংয়ে কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুজ্জামান এবং ডিবি ওসি মুহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আণায় জেলা পুলিশের এমন তাৎক্ষণিক ভূমিকার প্রশংসা করছেন সচেতন এলাকাবাসী।






