লেবাসধারী নজরুল; গাজীপুর আওয়ামী লীগের ছায়াতলে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিএনপিকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ছাপানোর হুমকি
নজরুল ইসলাম আজহার, একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত হলেও, তার কর্মকাণ্ড অনেকের কাছেই ছিল আতঙ্কের নাম। ‘বাংলাভূমি’ নামক নিজস্ব একটি পত্রিকার মালিক ও সম্পাদকের ভূমিকায় থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
তার পত্রিকাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তিনি বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ছাপানোর হুমকি দিতেন এবং এসব ভয়ের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ছিলেন তার এই ভয়ভীতির রাজনীতির শিকার। মামলা ফাঁসানোর হুমকি, চরিত্র হননের আশঙ্কা—সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন তার পত্রিকায় ‘সংবাদ’ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে।
আজহার সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ সবুজ ও সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। নজরুলকে ছাড়া তাদের দলীয় কর্মকান্ড ছিল অসম্পূর্ণ।
গাজীপুর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ছত্রছায়ায় তিনি হয়ে ওঠেন হর্তাকর্তার একজন।
তথাকথিত সাংবাদিকতার আড়ালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে, প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি এক ভয়ঙ্কর ও অশুভ ছায়া তৈরি করেছিলেন। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তিনি ছিলেন কার্যত একজন অঘোষিত সিদ্ধান্তনেতা, যিনি অন্যদের বিপদে ফেলার একের পর এক কৌশল রপ্ত করেছিলেন।
তার প্রভাবে প্রশাসনের অনেক সৎ কর্মকর্তা চুপ করে থাকতে বাধ্য হতেন, কারণ সংবাদে বদনামের ভয় বা হঠাৎ কোনো রাজনৈতিক চাপের আশঙ্কা সবসময়ই মাথার ওপর ঝুলে থাকত। ভিন্ন এক দূর্নীতির খবর ছাপানোর সময় গাজীপুর সদর
এসিল্যান্ডের ছবি ব্যবহার করে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিলেন নজরুল ইসলাম আজহার।
আজহার ছিলেন শুধু একজন দলীয় কর্মী নন, বরং ক্ষমতার এমন এক কুশলী খেলোয়াড় যিনি দল, প্রশাসন, ও মিডিয়ার ত্রিমাত্রিক শক্তিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে জানতেন। তার বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ থাকলেও, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে তিনি ছিলেন কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ধূর্ত এই নজরুল ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি লেবাসও পরিবর্তন করে ফেলেছেন। যাতে থাকতে পারেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।।






