সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ১২ দিন পরেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মামলার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

আজ সোমবার (২৮ এপ্রিল) বাঞ্ছারামপুর থানার সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

জানা যায়, বিক্ষুব্ধরা ধর্ষণের ঘটনার ১২ দিন পরেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তারা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও তার ফাঁসির দাবি জানিয়ে থানায় প্রবেশের চেষ্টা করলে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেয় পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধরা বিক্ষোভ ও অনশন স্থগিত করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না হলে থানা ঘেরাও কর্মসূচিসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানার সামনে বিক্ষোভ ও অনশনের আগে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সর্বস্তরের মানুষ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অংশ নেয়।

মানববন্ধনের সমন্বয়কারী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, একটি পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের ১২ দিন পরও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়াটা পুলিশের চরম ব্যর্থতা।

এ জন্য আমরা মানববন্ধন শেষে থানার সামনে বিক্ষোভ ও অনশন করেছি। তখন পুলিশ আমাদেরকে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে পুলিশ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে আমরা অচিরেই থানা ঘেরাওসহ আরো কঠোর কর্মসূচি দেব।
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী আজ সোমবার সকালে বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
এ ধর্ষণ মামলার এজাহারে যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি একটি মসজিদের ঈমাম। ধর্ষণের পরপরই তার বাড়ি-ঘরে হামলাও করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এরপর থেকেই সেই ঈমাম পলাতক। তবে এ মামলায় গুরুত্ব দিয়ে তিন জন এসআই কাজ করছে। আশা করছি, শিগগিরই ধর্ষক ধরা পড়বে।
শিশুটি এখন পুলিশি হেফাজতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে আজ সোমবার সকালে নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাকের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে ওই পাঁচ বছরের কন্যাশিশুকে বাড়ির ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটি বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে একটি মামলা করেন।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply