হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন চুনারুঘাট থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলগাঁও ও আদাবর থানায় দায়ের হওয়া পৃথক হত্যা মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি শেখ জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন আদেশ দেন। আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার পূর্ণিমা জাহান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ গোলচত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় মামলাটি করেন। এতে ব্যারিস্টার সুমনসহ ৯৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সর্বশেষ চুনারুঘাট থানার মামলায় জামিন পেলেও খিলগাঁও ও আদাবর থানার পৃথক হত্যা মামলায় জামিনের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তার কারামুক্তি সম্ভব হচ্ছে না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মামলায় জামিন পাওয়া মানেই কোনো আসামির তাৎক্ষণিক মুক্তি নিশ্চিত হয় না। যদি অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রিমান্ড বা বিচারাধীন কার্যক্রম চলমান থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইন অনুযায়ী কারাগারেই থাকতে হয়। তারা বলেন, একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া অযথা দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়াও ন্যায়বিচারের অন্যতম শর্ত।
সমাজ বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আলোচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে যেমন স্বচ্ছ তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি, তেমনি দীর্ঘদিন বিচারাধীন অবস্থায় আটক থাকার বিষয়টিও মানবাধিকার ও বিচারপ্রাপ্তির প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার সুমনের মতো আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের ভাষায়, এসব মামলার নিষ্পত্তি অবশ্যই আদালতের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে কোনো মামলাই যেন রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বর্তমানে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার জামিন আবেদন ও বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপরই তার কারামুক্তির বিষয়টি নির্ভর করছে।






