নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
বুধবার (৬ মে) সকালে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ৪টায় র্যাব-১৪ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে তাকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় এক বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে। জীবিকার প্রয়োজনে তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সে কারণে শিশুটি নানীর কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক সাগর জোরপূর্বক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ না করতে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক মাস ধরে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ছুটি নেওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকও আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, আজ দুপুরে আসামীকে থানায় হস্তান্তরের কথা রয়েছে। আসামিকে হস্তান্তরের পর দ্রুত আদালতে পাঠানো হবে। সময় অনুকূলে থাকলে আজই, অন্যথায় আগামীকাল তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।






