চিরিরবন্দর উপজেলার বেলতলী বাজারে মরা মুরগী বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এক ব্যবসায়ী তিনটি বস্তায় ভরে অন্তত তিন শতাধিক মুরগী বিক্রির জন্য বাজারে আনেন। মুরগীগুলোর অবস্থা সন্দেহজনক মনে হলে ক্রেতারা প্রতিবাদ জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন ক্রেতা মুরগীগুলোর অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ব্যবসায়ী ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এতে বাজারে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা হয়।
তবে পুলিশের পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ব্যবসায়ী পাশের সুখীপীর বাজারের দিকে পালিয়ে যান বলে জানান স্থানীয়রা। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ বাজারে পৌঁছালেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বেলতলী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “মুরগীগুলো স্বাভাবিক ছিল না। আমরা সন্দেহ হলে প্রতিবাদ করেছি।”
একজন ক্রেতা বলেন, “এভাবে মরা মুরগী বিক্রি করলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। আমরা এর বিচার চাই।”
প্রশাসনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরে পড়েন। তাকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর–এর এক কর্মকর্তা বলেন, “মরা বা অস্বাস্থ্যকর মুরগীর মাংস বিক্রি ও ভক্ষণ করলে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি থাকে। ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিংসহ বিভিন্ন সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। বাজারে পোলট্রি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন–এর এক প্রতিনিধি বলেন, “নিরাপদ খাদ্য পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে প্রতারণা মানবাধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী দাবি করেন, মুরগীগুলো বাড়ি ও খামারে জবাই করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরগীগুলোর অবস্থা বাজারজাতের উপযুক্ত ছিল না। ঘটনার পর বাজার এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।






