রাজধানী

পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাতেই মোটরসাইকেল ও গাড়ি; দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যদের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ

রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর প্রশিকা বিল্ডিং সংলগ্ন ফুটপাত দখল করে মোটরসাইকেলের চলাচল, নগরীতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উপস্থিত কর্তব্যরত সার্জেন্ট ও ট্রাফিকের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বরে অবস্থিত প্রশিকা বিল্ডিং সংলগ্ন চৌরাস্তায় ট্রাফিক শৃঙ্খলার চরম অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যস্ত এ মোড়ে সিগন্যাল অমান্য করে যানবাহন চলাচল এবং ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দাপট নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়ম চোখের সামনে ঘটলেও দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টদের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাল বাতি জ্বলে থাকলেও কিছু যানবাহন থামছে না। যানজটের সুযোগ নিয়ে একাধিক মোটরসাইকেল ফুটপাত দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ফুটপাতের একটি অংশ ভাঙাচোরা ও সরু হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
এক পথচারী বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে গেছে। হঠাৎ পেছন থেকে মোটরসাইকেল উঠে আসে। প্রতিবাদ করলে উল্টো তর্কে জড়ায়।”
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত একই চিত্র। ট্রাফিক সদস্যরা থাকলেও কড়াকড়ি নেই বললেই চলে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ফুটপাত পথচারীদের জন্য সংরক্ষিত; সেখানে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা মনে করেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে শৃঙ্খলা ফিরবে না। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল বলছে, ব্যস্ত এ চৌরাস্তার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় পথচারীদের নিরাপত্তা ও নগর শৃঙ্খলা দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Leave a Reply