একদল দাঙ্গাবাজ ব্যক্তির অব্যাহত হামলা ও মারপিটের কারনে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক বছর যাবত উপজেলার আরজি দেবীপুর আলিম মাদ্রাসা ও শিয়ালকোট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপর দফা দফায় হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।এসব ঘটনায় প্রশাসনের আইনী সহায়তা চেয়েও কোন প্রতিকার পায়নি হামলার শিকার ভূক্তভোগীরা।প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক নির্লিপ্ততার সুযোগে গত দুই সপ্তাহেও দুই দফায় হামলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মচারীদের উপর।
আরজি দেবীপুর আলিম মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোজাম্মেল হক ও শিয়ালকোট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি শাহাজাদা মন্ডল মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত একদল দাঙ্গাবাজ লোক বিভিন্ন অজুহাত ও হুজুগ ˆতরি করে গত ২৯ আগষ্ট তাদের উপর হামলা চালায় হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে গুরতর আহত হন অফিস সহকারী মোজাম্মেল হক। এ ঘটনায় পার্বতীপুর মডেল থানায় মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হামলাকারী দলটি। তারা অভিযোগ তুলে নিতে মোজাম্মেল হক ও সাক্ষীদের উপর পূনরায় হামলা করে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায়।হামলাকারীরা শিয়াল কোট বাজারে ধাওয়া করে লাঠি সোটা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোজাম্মেল হক, সোহেল রানা, শাহজাদা ও রাশেদুল ইসলামকে গুরতর আহত করে। আহতরা এখন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।আজ দুপুরে মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানান, হামলাকারীরা তাকে চিরতরে পঙ্গু করার উদ্দেশ্য তার বাম হাতের তিনটি আঙ্গুল ভেঙ্গে দেন।এছাড়াও তাদের লাঠির আঘাতে মোজাম্মেলের ডান পা ও কোমরের হাড় ফেটে যায়।রাশেদুল ইসলামের দুই পায়ের হাটুর নিচের অংশ ভেঙ্গে দেওয়া হয়।হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে সোহেল রানার চোয়ালের হাঁড় ভেঙ্গে যায়।
মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, গত ২৯ আগষ্ট তারিখের হামলার ঘটনায় পুলিশ দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নিলে সর্বশেষ হামলায় আমাদের এই নির্মম পরিনতি হতোনা।এজন্য পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক ভূমিকাও দায়ী বলে তিনি দাবী করেন।এ বিষয়ে হাবড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুজ্জামান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাদ্রাসার দখলে থাকা কিছু জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।হামলাকারী প্রতিপক্ষ লোকদের মতামত নিতে যোগাযোগ করা হলেও তাদের ভাষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পার্বতীপুর থানাধীন ভবানীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তাক বিল্লাহ জানান, ২৯ আগষ্টের মারামারির একটি অভিযোগ হয়েছিল, কিন্তু সাধারন মারিমারির ঘটনা হওয়ায় মামলা হিসেবে না নিয়ে জিডিভূক্ত করে রাখা হয়। প্রসিকিউশন রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কোন আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে থানার ওসি সাহেব বলেতে পারবেন।
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, অভিযোগটি সাধারন মারামারির ঘটনা হলেও বাদীর লিখিত বর্ননায় লেখা হয়েছিল চাঁদাবাজির ঘটনা। একারনে তাকে সংশোধন করে নতুন অভিযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি অদ্যাবদি অভিযোগটি সংশোধন করে জমা দেননি।
পূণরায় সংঘর্ষের ঘটনার ব্যাপারে তিনি জানান, আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তারা সুস্থ্য হয়ে আসলে তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


