রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আয়োজিত “জাস্টিস ফর রামিসা” মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে ক্ষোভ, কান্না ও প্রতিবাদের আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রামিসার হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে শ্যাডো (সোসাইটি ফর হিউম্যানিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট ওভার দ্যা ওয়ার্ল্ড)।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মতো ভয়াবহ অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যাওয়ায় অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে এসব অপরাধ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম নড়াইল থেকে এসে বলেন, টেলিভিশনে রামিসার বাবার আবেগঘন বক্তব্য দেখেই তিনি শাহবাগে ছুটে এসেছেন। তিনি বলেন,
“যতদিন পর্যন্ত শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হবে, ততদিন রাজপথ ছাড়বো না। আমরা আর কোনো শিশুর কান্না, কোনো মা-বাবার আহাজারি দেখতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিশু অপহরণ, ধর্ষণ, মুক্তিপণ দাবি এবং পাচারের মতো অপরাধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাচারে ব্যর্থ হলে খুন পর্যন্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জড়িতদের “মানুষরূপী জানোয়ার” বলে আখ্যা দেন।
শ্যাডোর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সাদ্দাম হোসাইন রনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখন দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ নেই। অপরাধী মানেই অপরাধী। এই ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সমাবেশে শ্যাডোর উপদেষ্টা শেকর আহমেদ বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব অপরাধীদের জন্য পরোক্ষ প্রশ্রয় হিসেবে কাজ করছে। তিনি রামিসা হত্যাকাণ্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু প্রতিবাদ নয়—আইনের কঠোর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার ব্যবস্থা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ন্যায়বিচারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শ্যাডোর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সাদ্দাম হোসাইন রনি, পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম, অধ্যক্ষ সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, শেকর আহমেদ, মমিনুল ইসলাম নাবিল, জারিন তাসনিম, মোঃ তাহসিন গাজী, আফতাব আহমেদ, জিহাদ হোসাইনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা।






