রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে র্যাব-১০। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ এক পেশাদার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১০ এর সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ডিএমপি’র শ্যামপুর থানাধীন পোস্তগোলা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। অভিযানে আরিফুর রহমান নয়ন (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সমাজ ও জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এ ধরনের অস্ত্রধারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও সময়োপযোগী অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা বলছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, সাধারণ মানুষের তথ্য সহায়তাও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
মানবাধিকার সচেতন মহলের মতে, সমাজে শান্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, অস্ত্র বাণিজ্য ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধ দমনের পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই একটি নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
র্যাব-১০ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।






