নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম আজাদ। ১১৮টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে দেখা যায়, মোট ৩,৫৯,৫৮৭ জন ভোটারের মধ্যে ২,৩৩,৯০৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা শতকরা ৬৫.০৫ শতাংশ।
এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম আজাদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মো. ইলিয়াছ মোল্লা-এর মধ্যে।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. নজরুল ইসলাম আজাদ পেয়েছেন ১,২৪,২৯১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াছ মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮১,০৫৪ ভোট। ফলে ৪৩,২৩৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন নজরুল ইসলাম আজাদ। মোট বৈধ ভোটের (২,৩০,০৭৩) মধ্যে ধানের শীষ পেয়েছে ৫৪.০২ শতাংশ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৩৫.২৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ প্রায় ১৮.৭৯ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এই আসনে স্পষ্ট ও নিরঙ্কুশ জয় অর্জিত হয়েছে।
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতাউর রহমান খান (কলস) পেয়েছেন ১৮,৭৪৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫,২৬৫ ভোট। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা সীমিতসংখ্যক ভোট অর্জন করেছেন।

মোট ভোটার: ৩,৫৯,৫৮৭ জন, প্রদত্ত ভোট: ২,৩৩,৯০৬ জন (৬৫.০৫%), বৈধ ভোট: ২,৩০,০৭৩টি, বাতিল ভোট: ৩,৮৩৩টি
জনগণের আস্থার প্রতীক নজরুল ইসলাম আজাদ নির্বাচনী প্রচারণাকালে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। মাঠপর্যায়ে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি, সহজ-সরল আচরণ ও জনবান্ধব রাজনীতিই এই বিপুল বিজয়ের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সুখ-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করেছেন। তাই এই জয় শুধু রাজনৈতিক বিজয় নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
পরাজিত প্রার্থী মো. ইলিয়াছ মোল্লা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর প্রচারণা ও সাংগঠনিক তৎপরতা নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাঁর জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
নজরুল ইসলাম আজাদের এই বিজয়ের মাধ্যমে আড়াইহাজারবাসী নতুন উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রত্যাশায় রয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, তিনি তাঁর দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই আসনকে একটি মডেল নির্বাচনী এলাকায় রূপান্তর করবেন।
শুভেচ্ছা ধানের শীষ। অভিনন্দন নজরুল ইসলাম আজাদ। জনগণের এই বিপুল আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা রেখে তিনি আড়াইহাজারের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন সর্বত্র।






