লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যবিধি অনিয়মের বিরুদ্ধে ডিএনসিসির কঠোর অভিযান
নগরের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। ট্রেড লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সংস্থাটি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে মোহাম্মদপুর রিং রোড ও আদাবর এলাকায় ডিএনসিসির ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
এ সময় প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়,বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ করেনি কিংবা লাইসেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত আকারের সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড স্থাপন করাও ছিল একটি বড় ধরনের অনিয়ম।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন,
“ট্রেড লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নগরের শৃঙ্খলা ও নাগরিক স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছি।”

তিনি আরও জানান, অবৈধ ও অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন নতুন করে পরিমাপ করে আইন অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হচ্ছে। নিয়মিত বিজ্ঞাপন কর পরিশোধ নিশ্চিত করা গেলে নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় আর্থিক সংকট থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযানে টপটেন, এপেক্স (Apex), বে (Bay), স্টার ফার্নিচারসহ একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ও বিজ্ঞাপন লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। এছাড়া ‘কাচ্চিভাই’ নামের একটি খাবার হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে হোটেলটির ট্রেড লাইসেন্স জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।
ডিএনসিসি কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই অনুমোদনের তুলনায় বড় আকারের সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড ব্যবহার করছে। এসব বিজ্ঞাপন নতুন করে পরিমাপ করে বিধি অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন কর আদায়ের নোটিস দেওয়া হবে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানানো হয়, নগরে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, অনিয়ম দমন এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।






