রাজধানী

প্রকাশ্যে ঘুরছে হত্যা মামলার আসামী আ.লীগ নেতা সফি হাজী নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

সাভার থানাধীন কাউন্দিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের গত দুই যুগ ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত কুখ্যাত ভূমি দস্যু সাইফুল আলম খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড  । লেদ মিস্ত্রি সফি যে কিনা বতর্মানে সফি হাজী নামে স্থানীয় সকল কাছে পরিচিত। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভার ছাত্র হত্যার দায়ে সাভার থানায় দায়ের করা ৮ নং মামলার ৭৮ নম্বর আসামী হয়েও  জামিন ছাড়াই প্রশাসনের সামনেই বুক ফুলিয়ে বহাল তবিয়তে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে সাভার থানার পুলিশ ও কাউন্দিয়া ফাঁড়িতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এবিষয়ে রহস্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করায় ছাত্র হত্যা মামলার বাদী, আকলিমা বেগমসহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত আহত ও নিহতদের পরিবার এবং নিরাপত্তা স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  অত্র এলাকার স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মামলার বাদী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত এলাকাবাসী দৈনিক আমাদের সমাচার প্রতিবেদক’কে এ বিষয়ে বলেন, বতর্মানে সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ কফিল উদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট থানায় কর্তব্যরত অসাধু কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার অন্যতম এজহার নামীয় আসামি লেদ মিস্ত্রি সফি ওরফে সফি হাজী।

স্থানীয়রা আর বলেন, গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর কুখ্যাত ভুমি’দস্যু কাউন্দিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল আলম খান’সহ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা কর্মিগণ  পলাতক ও গা ঢাকা দিলেও কাউন্দিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুলের সেকেন্ড ইন কমান্ড সফি হাজী ৫ আগস্টের পর সাময়িক নিশ্চুপ থাকলেও, এখন অনেকটা বেপরোয়া।

একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী, সফি অথচ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে না! অনেকটা নির্ভয়ে তিনি গোপনে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষ হয়ে সাভার’সহ আশেপাশের এলাকায়  অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করার জন্য কাজ করছেন।

পাশাপাশি, কাউন্দিয়ায় সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল এর বাড়িতে অত্র এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠিত হতেও দেখা যায় তাকে।

সফি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর কুখ্যাত ভুমি দস্যু কাউন্দিয় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল আলম খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে।

আওয়ামী লীগের আমলে অত্র এলাকায় সাইফুল আলম খানের সকল অপরা ধমূলক কর্মকাণ্ড ,দখলদারিত্ব,চাঁদাবাজি অবৈধ ইটের ভাটা সহস সকল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন এই সফি। বতর্মানেও সাইফুল আলম পলাতক থাকলেও তার সকল কিছুই সফি হাজী তত্ত্বাবধান করছেনা। সামান্য একজন লেদ মিস্ত্রি হয়েও বনে যায় অঢেল সম্পদের মালিক। যে সকল যায়গায় সফি হাজীর সম্পদ রয়েছে।

দারুস’সালাম থানাধীন এলাকায় রয়েছে তার একটি বাড়ি ও ফ্ল্যাট, কাউন্দিয়া ইউনিয়নে রয়েছে বাড়ি জমি নওগাঁ নিতপুর আমের বাগান ময়মনসিংহে রয়েছে মাছের ঘের,ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায়  রয়েছে নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তি।

এসকল সম্পত্তি সব অনৈতিক পথে অর্জিত যা তিনি আওয়ামী লীগ আমলে সাইফুল আলম খানের ছত্রছায়ায় থেকে দলীয় ক্ষমতা সর্বোচ্চ অপব্যবহার দ্বারা এবং বিভিন্ন টেন্ডারবাজির মাধ্যমে করেছেন। এমন একজন মানুষ কীভাবে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এবিষয়ে প্রতিবেদক কাউন্দিয়া ফাঁড়ি ইনচার্জ কাজী আব্দুর রহিমের মুঠোফোনে  ফোন করেলে তিনি বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে,তারা কাউন্দিয়া ইউনিয়নে কোথায় অবস্থান করছে আপনাদের নিকট যদি কোন তথ্য থাকে আমাকে দিন আমি ২০ মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। অন্যথায় আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে আমি তাদের গ্রেপ্তার করব ইনশাআল্লাহ্

এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির জানান, আমাদের ইউনিয়ন পর্যায়ে থানার বিট অফিসারকে বলা আছে, তাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনাও দেয়া আছে যে হত্যা মামলার আসামির খোঁজ পাওয়া গেলেই তাকে গ্রেফতার করার জন্য।  আর সফি হাজীর কোনো খোঁজ পাওয়া গেলে আমাকে তথ্য দিলে প্রয়োজনে থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়ে আমি ব্যবস্থা নিব আর এবিষয়ে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply