অপরাধ ও দুর্নীতি

ঠাকুরগাঁওয়ে, ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ধান ও মেহগনি গাছ কেটে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলমগীর ইসলাম (৪৩) ভূল্লী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলমগীর ইসলাম একজন কৃষক। কৃষিকাজ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। ভূল্লী উপজেলার মুজাবর্নী (ডাঙ্গাপাড়া) এলাকায় তার চাষাবাদ করা জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা জমিটি জোরপূর্বক দখলের জন্য বিভিন্নভাবে পাঁয়তারা করে আসছিলেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগে আলমগীর ইসলাম উল্লেখ করেন, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি তার জমিতে গিয়ে দেখতে পান, মো. সামসুল আলম (৫০), হাপু (৪৫), নুর ইসলাম (৩৫), আলমগীর ওরফে বাইজু (৩৬) ও আবু নাঈম (২০) দলবদ্ধভাবে তার জমিতে প্রবেশ করে সেখানে থাকা ধান কাটছেন।

 

এ সময় তিনি তাদের ধান কাটতে নিষেধ করলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন জীবন বাঁচাতে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।

 

আলমগীর ইসলামের অভিযোগ, তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। পরে তিনি পুনরায় জমিতে গিয়ে দেখতে পান, জমিতে থাকা সমস্ত ধান কেটে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে জমিতে থাকা সাতটি মেহগনি গাছও কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে তার আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মামুন (৪৫), মনোয়ারা বেগম (৩৫) ও মাহফুজ আলম (২৬)সহ স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী। এ ছাড়া ঘটনার আরও সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে, যা প্রয়োজনে পরবর্তীতে উপস্থাপন করা হবে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

 

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

অভিযোগে জমিটির তফসিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—ভূল্লী উপজেলার আরাজী কুমারপুর মৌজা, জে.এল. নং-৫৮, এসএ খতিয়ান নং-৩০, সিএস খতিয়ান নং-২২, দাগ নং-৯৩, ১০০ ও ৯৭; জমির মোট পরিমাণ ৮৪ শতক।

 

এ বিষয়ে ভূল্লী থানার সেকেন্ড অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply