ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কৃষিজমি, জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন। গত এক সপ্তাহের অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার মূলগ্রাম, বিনাউটি ও কুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও অভিযান পরিচালনা করে আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি এবং জলাশয় ভরাটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের ফলে কৃষিজমি রক্ষায় আশার সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, “প্রশাসন যদি এভাবেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে এবং কৃষিজমি রক্ষা পাবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নির্দেশনায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “কৃষিজমি, জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি ছুটির দিনেও আমরা অভিযান পরিচালনা করছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টায় কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামবাড়ি বাজারের পশ্চিম পাশে একটি পুকুর ভরাটের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় শামীম উদ্দীন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার দায়ে ১,০০,০০০ (এক লাখ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে ড্রেজারের সম্পূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ফেললে জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, জলাশয় ভরাট ও অপরিকল্পিত ড্রেজিং জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। তাই এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীরা অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তারা এই অভিযান আরও বিস্তৃতভাবে চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান।
গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “অবৈধ ড্রেজারের কারণে কৃষিজমি, জলাশয় ও পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান জনমনে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তবে এই অভিযান যেন সাময়িক না হয়ে নিয়মিত ও নিরপেক্ষভাবে চলমান থাকে, সে প্রত্যাশাই এলাকাবাসীর।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলাশয় ভরাট রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।






