কলেজের পেছনের পুরোনো প্রাচীর ভেঙে আহত আরও ৬; দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের দাবি, জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
রাজধানীর মিরপুরে টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য লাইনে অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর একটি পুরোনো দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু এবং অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনা এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছন সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসাধীনদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারিতে নারী-পুরুষ অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে কলেজের পুরোনো দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর পড়ে যায়। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ইট-পাথর সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনে হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, দেয়ালটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে তাদের ধারণা। তারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্ত তথ্য দেবে
ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দুর্ঘটনার কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
একজন আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা সম্পর্কে পূর্বে অবগত থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ফৌজদারি আইন এবং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযোজ্য আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
একজন সমাজবিশেষজ্ঞের মতে, কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাই যেখানে জনসমাগম হয়, সেখানে ভবন, দেয়াল ও অন্যান্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত।
একজন মানবাধিকারকর্মী বলেন, নিরাপদ পরিবেশে সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল, ভবন এবং স্থাপনাগুলোর জরুরি নিরাপত্তা নিরীক্ষা করা হোক। একই সঙ্গে টিসিবিসহ যেসব স্থানে নিয়মিত জনসমাগম হয়, সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলমান ছিল।






