সারাদেশ

দিনাজপুরে হাসপাতালের অনুষ্ঠানে ‘টেস্টি ট্রিট’-এর খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক অসুস্থ

দিনাজপুর শহরের উপশহর এলাকায় গাক (GAK) চক্ষু হাসপাতালের একটি অনুষ্ঠানে সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে নারী ও পুরুষসহ অর্ধশতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই অনুষ্ঠানে দিনাজপুর শহরের ‘টেস্টি ট্রিট’ শাখা থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিথি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হঠাৎ করে পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া ও শারীরিক দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং একে একে অসুস্থদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অসুস্থদের মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, দিনাজপুর ইসলামিক হাসপাতাল এবং জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও অধিকাংশই বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং চিকিৎসা চলছে।
দিনাজপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “একসঙ্গে এত রোগীর আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্যজনিত বিষক্রিয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হতে ল্যাব রিপোর্ট প্রয়োজন। রিপোর্ট ছাড়া চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”


মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে নাগরিক স্বাস্থ্য অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতার প্রতিফলন। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।”
ভুক্তভোগীরা জানান, “খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। বমি ও পেটব্যথায় আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। এত মানুষ একসাথে অসুস্থ হয়ে যাবে—এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি অনুষ্ঠানের খাবার যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

দৌলতপুর জাগ্রত সমাজ কল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোহাম্মদ ইমরান মোল্লা বলেন, “এটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও দুঃখজনক ঘটনা। একটি প্রতিষ্ঠানের খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, বিএসটিআই মান যাচাই এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনার পর টেস্টি ট্রিটের সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পর খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিএসটিআই অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা 272 ও 273, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply