“ভেতরের লোকের সহায়তায় নিরাপত্তা ভেদ করে স্টোররুমে আগুন—তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ”
রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এটি একটি চুক্তিভিত্তিক অগ্নিসংযোগ, যেখানে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে বোরখা পরে স্টোররুমে আগুন দেন আসমাউল ইসলাম নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (২ মে) রাতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার জানান, শুক্রবার (১ মে) ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত স্টোররুমে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এটি পরিকল্পিত নাশকতা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। ভেতরের সহায়তা ছাড়া সরকারি সংরক্ষিত স্টোররুমে প্রবেশ করে এ ধরনের অগ্নিসংযোগ করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, স্টোররুমে সংরক্ষিত মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ২০২টি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। পাশাপাশি আরও ৮৩টি ল্যাপটপ নিখোঁজ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আইটি সরঞ্জামেরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে এ ধরনের পরিকল্পিত নাশকতা হবে—এটা কল্পনাও করা যায় না। আমরা তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়াও ফৌজদারি আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আগুন দিয়ে সম্পদ ধ্বংস (ধারা ৪৩৬), অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা ১২০বি), সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন এবং বিশ্বাসভঙ্গ সংক্রান্ত ধারা। এসব অপরাধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে এবং আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হৃদয় নামের আরেকজন সন্দেহভাজনের খোঁজ চলছে। পুরো আর্থিক লেনদেন ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিশ্লেষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার নেটওয়ার্ক স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ইতোমধ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।






