শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠান নতুন রূপে ফিরছে, পুরোনো প্রজন্মে নস্টালজিয়া, নতুনদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহী
বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসে এক আবেগঘন নাম নতুন কুঁড়ি, দীর্ঘ ১৯ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও পর্দায় ফিরতে যাচ্ছে। একসময় যে অনুষ্ঠান ঘিরে পরিবারে পরিবারে তৈরি হতো উৎসবমুখর পরিবেশ, সেই হারানো দিন ফিরে পাওয়ার আশায় এখন প্রহর গুনছে দর্শক।
১৯৬৬ সালে বিশিষ্ট শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার–এর হাত ধরে শুরু হয় এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। পরে স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে নতুন কুঁড়ি, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান।
৮০ ও ৯০ দশকে এই অনুষ্ঠান পৌঁছে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। গান, নাচ, অভিনয় ও আবৃত্তির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসে অসংখ্য প্রতিভা। এই মঞ্চ থেকেই পরিচিতি পেয়েছেন তারানা হালিম, মেহের আফরোজ শাওন, নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং সামিনা চৌধুরী–এর মতো তারকারা।
তবে ২০০৫–২০০৬ সালের দিকে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠান। বিটিভির আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সংকট, বেসরকারি টেলিভিশনের উত্থান এবং বৃহৎ আকারে প্রতিযোগিতা পরিচালনার জটিলতা—এসব কারণেই থেমে যায় একটি প্রজন্মের প্রিয় আয়োজন।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নতুন কুঁড়ি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উচ্চ পর্যায়ের সমর্থনে অনুষ্ঠানটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে নতুন নতুন কুঁড়ি আবারও দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই নতুন আয়োজন কি পারবে আগের মতো সেই আবেগ, সেই জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে?
দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার পর যখন আবারও শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি, তখন এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া শৈশব, স্মৃতি আর স্বপ্ন ফিরে পাওয়ার গল্প।






