আম্পায়ারের সঙ্গে অসদাচরণের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু এক ম্যাচ পরই মাঠে তিনি। ম্যাচ খেলেন অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে। দুই দিন আগের সেই ম্যাচে মোহামেডান অধিনায়কের খেলা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে।
মোহামেডানের দাবি, শাস্তি কমানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) অনুমোদন পেয়েই তাওহিদকে ম্যাচ খেলানো হয়েছে। কিন্তু সিসিডিএম আবার জানেই না, এই অনুমোদন কিভাবে পেয়েছে মোহামেডান!
১২ এপ্রিল আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে দুটি কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন তাওহিদ। প্রথমে আম্পায়ারের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান। পরে ম্যাচশেষে সংবাদমাধ্যমে আম্পায়ারের বিপক্ষে আরেক ‘ইনিংস’ খেলেন তাওহিদ।
তাতে ম্যাচ রেফারি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপর টেকনিক্যাল কমিটির টেবিলে তাওহিদের ভাগ্যে যোগ হয় বাড়তি ৪ ডিমেরিট পয়েন্ট। তাতে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক থেকে বেড়ে হয় দুই ম্যাচ। সে হিসাবে সুপার লিগে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে খেলতে পারার কথা নয় তাওহিদের।
তবে তিনি খেলেছেন এবং সেদিনই টেকনিক্যাল কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও আন্তর্জাতিক আম্পায়ার এনামুল হক মনি। যোগাযোগ করা হলে অবশ্য পদত্যাগের কারণ জানাননি তিনি। তবে ক্রিকেটাঙ্গনে রটে গেছে যে তাওহিদের শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে নেওয়ার ক্ষোভ থেকেই সম্ভবত পদত্যাগ করেছেন এনামুল।
যদিও শাস্তি কে কমিয়েছে, একমাত্র মোহামেডান ক্লাব ছাড়া কোনো পক্ষ থেকেই সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোহামেডানের ক্লাব কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুমতি দিয়েছে সিসিডিএম।
তবে সিসিডিএম থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়ার কথা কেউ স্বীকার করছেন না! চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী কিংবা সদস্যসচিব সাজ্জাদ হোসেন মোহামেডানের ‘দাবি’ সম্পর্কে অবগত নন।
গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায় ঘোষণার দিনই দোষ স্বীকার করে শাস্তি কমানোর জন্য সাদা কাগজে একটি আবেদন করেছিলেন তাওহিদ। পরে সিসিডিএম বরাবর মোহামেডানের প্যাডে একই আবেদন করা হয়। ক্লাবটির ম্যানেজার ও সাবেক ক্রিকেটার সাজ্জাদ আহমেদ গতকাল জানিয়েছেন, ‘যদি তাদের (সিসিডিএম) দিক থেকে অনুমতি না দেওয়া হতো, তাহলে তো সে (তাওহিদ) খেলতে পারত না। মোহামেডানকে নিষিদ্ধ করা হতো।’ কিন্তু সিসিডিএমের পক্ষ থেকে কার স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে তাওহিদকে খেলানো হয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি মোহামেডানের ম্যানেজার, ‘আমি কারো নাম বলতে চাই না। তবে আবেদনের পর সিসিডিএম থেকে হৃদয়ের শাস্তি কমানোর একটা চিঠি আমরা পেয়েছিলাম। সে হিসেবে ও অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে নামে।’
সিসিডিএমের সদস্যসচিব সাজ্জাদ হোসেন অবশ্য ভিন্ন একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘এখানে বিষয়টা হচ্ছে, কোনো ক্রিকেটার যদি ৪-৭ ডিমেরিট পয়েন্ট পায়, আইসিসির আইন অনুযায়ী এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়।’ এই ধারার কথা জানিয়েই কি তাওহিদের শাস্তির মেয়াদ কমানোর ব্যাপারে মোহামেডানকে অবহিত করেছে সিসিডিএম? সেটিও জানেন না কমিটির সদস্যসচিব। তাহলে মোহামেডানকে চিঠিটা দিলেন কে? এই লুকোচুরি কেন?






