খেলাধুলা

ব্যাটিং ধসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে লড়াইয়ের আভাস দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধসে ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের অভিষেক টেস্ট ফিফটির পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে বড় লক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানের লক্ষ্য ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। তাতে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষ হওয়ার আগেই ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ১৪২ রানে। প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৫ রান করায় ১৬৯ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। তবে সেই লিড যথেষ্ট হয়নি।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন নাঈম হাসান। জাকের আলী করেন ২২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ ৩৬ রানে ৫ উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিকান শিকার করেন ৪ উইকেট, খরচ করেন ৬৩ রান।

এর আগে চতুর্থ দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আগের দিন জাকের আলী ও নাঈম হাসান শেষ বিকেলে উইকেট ধরে রেখে লিড ১০০ ছাড়িয়েছিলেন। দিনের শুরুতে তাদের কাছ থেকেই বড় সংগ্রহের আশা ছিল বাংলাদেশের।

কিন্তু ওয়ারিকানের প্রথম ওভারেই স্লিপে চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাকের। পরের ওভারে নিজের বলে হাসান মাহমুদের ক্যাচ ছাড়েন ওয়ারিকান। কিছুক্ষণ পর নাঈমের ক্যাচও ফেলে দেন চেজ। ২৯ রানে জীবন পাওয়া নাঈম এরপর একপ্রান্ত আগলে রাখেন।

বৃষ্টির বিরতিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ওয়ারিকান ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদকে। তাইজুল ইসলামের ব্যাটে এজ করিয়ে চেজ তুলে নেন নিজের ১০০তম টেস্ট উইকেট। বৃষ্টি থামার পর নাঈম অভিষেক টেস্টে ফিফটি পূর্ণ করেন। তবে পরের ওভারেই চেজকে আক্রমণ করতে গিয়ে আউট হন তিনি। তাতে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ১৪২ রানে।

১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই স্বস্তিতে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লাঞ্চের আগে এক ওভার খেলে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে টিকে যান জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং। এরপর দুই ওপেনার মিলে গড়েন ১১২ রানের জুটি।

মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যাম্পবেল চাপ কমান। বৃষ্টির বিরতিতে ১৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৩ রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা। এরপরও বাউন্ডারির ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন দুই ওপেনার। দূরে বজ্রপাতের কারণে কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকলেও তাতে লক্ষ্য তাড়ায় ছন্দ হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টানা তিনটি চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন কিং। ওই ওভারের দ্বিতীয় চারটি স্লিপে ক্যাচ হওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও তা হাতছাড়া করেন বাংলাদেশী ফিল্ডার। ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত।

শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে শরিফুল ইসলামের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন ক্যাম্পবেল। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে। ক্যাম্পবেল ফেরার পর তেজহীন ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে নেন ব্র্যান্ডন কিং। ত্যাগনারায়ণ চন্দরপলের সঙ্গে তার জুটি কিছুটা ধীরগতির হলেও লক্ষ্য তাড়ায় কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি।

চন্দরপল আউট হওয়ার পরও থামেননি কিং। ৭০ রানে থাকা অবস্থায় ক্যাচের সুযোগ থেকে বেঁচে যান তিনি। অন্যপ্রান্তে কাভেম হজ দ্রুত রান তুলতে থাকলে জয় আরও সহজ হয়ে যায় স্বাগতিকদের জন্য। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন কিং। ৪.৯-এর কাছাকাছি রানরেটে ১৭০ রান তাড়া করে ৮ উইকেটের জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ম্যাচজুড়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন জোমেল ওয়ারিকান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২৭২ ও ১৪২ (নাঈম হাসান ৫২, জাকের আলী ২২; রস্টন চেজ ৫/৩৬, জোমেল ওয়ারিকান ৪/৬৩)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৫ ও ১৭০/২ (ব্র্যান্ডন কিং ৮১*, জন ক্যাম্পবেল ৪৯; হাসান মাহমুদ ১/১৪, শরিফুল ইসলাম ১/২০)

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী। দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply