অন্যান্য

ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির আহ্বান

রাজনীতি কোনো ক্ষমতার প্রদর্শনী নয়; এটি মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করার একটি মহান দায়িত্ব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দায়িত্ববোধ অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতার লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে, যা গণতন্ত্র ও সমাজের জন্য অশনিসংকেত।
যে রাজনীতিতে ন্যায় অনুপস্থিত, সেখানে উন্নয়ন কখনোই টেকসই হয় না। উন্নয়নের নামে অবিচার, বৈষম্য ও মানুষের কণ্ঠরোধ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই দুর্বল করে দেয়। তাই রাজনীতিকে হতে হবে ন্যায়নিষ্ঠ, মানবিক ও জনগণকেন্দ্রিক।
একজন রাজনৈতিক নেতার পরিচয় শাসক হিসেবে নয়—বরং সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই কাম্য। জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে তাদের দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করা এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই প্রকৃত নেতৃত্বের মানদণ্ড। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে রাজনীতির সত্যিকার সৌন্দর্য।
ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু চরিত্র ও আদর্শ স্থায়ী। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ক্ষমতার জোরে নয়, নৈতিকতা ও সততার মাধ্যমে যারা রাজনীতি করেছেন, তারাই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। এ পথচলায় আল্লাহভীতি একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা তাকে ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে সহায়তা করে।
আজকের প্রেক্ষাপটে সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা—তারা যেন দায়িত্বশীলতা, সংযম ও নৈতিকতার মাধ্যমে রাজনীতিকে মানুষের আস্থা ফেরানোর জায়গায় নিয়ে যান। ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাজনীতিই পারে একটি সুস্থ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।

লেখক : ইসলামিক স্কলার ও সমাজসেবক ড. ইঞ্জিনিয়ার এইচ এম রমজান পাশা।

Leave a Reply