অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত কমিশন তাদের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, ‘অস্বীকারের সংস্কৃতি’ বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় গুমের সত্য উদঘাটন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে সত্য ও জবাবদিহিতার পথে একটি বড় বাধা হলো- গুম ইস্যুতে গড়ে ওঠা অস্বীকারের সংস্কৃতি।’
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই গুমের সংগঠিত কাঠামোর অস্তিত্ব অস্বীকার করে এসেছে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরও এই অস্বীকারের মানসিকতা ভাঙা কঠিনই থেকে গেছে, কারণ অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো ক্ষমতার অবস্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
কমিশনের ভাষ্যে, প্রমাণ নষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক অসহযোগিতা, সম্ভাব্য সাক্ষীদের ভয় দেখানো এবং ভয়ভীতির সংস্কৃতি তাদের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে।
তবে পুরো কাঠামো উদঘাটনের চেষ্টা আবার সেই ভুক্তভোগীদের পুনরায় নিপীড়নের মুখে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করে কমিশন। যদিও তারা এ-ও বলেন যে এই কাঠামো উদঘাটনে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি, এমনটা বলা সঠিক নয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনেক ভুক্তভোগী নিজেরাই এগিয়ে এসেছেন; জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাদের কাহিনি তুলে ধরেছে, যার মাধ্যমে গোপন আটক কেন্দ্রগুলোর অস্তিত্ব সামনে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস স্বয়ং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে এই কেন্দ্রগুলোর কয়েকটি পরিদর্শন করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।






