আন্তর্জাতিক

সুদানের সশস্ত্র বাহিনী নৌঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

সুদানের বৃহত্তম নৌঘাঁটি পোর্ট সুদানে বুধবার টানা চতুর্থ দিনের মতো ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সেনাসমর্থিত সরকারের ঘাঁটিটিতে এই আক্রমণের একদিন আগেই সুদান সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল।

সেনাবাহিনীর দাবি, আরএসএফ বাহিনীকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে আমিরাত, যা এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।
লোহিত সাগর তীরবর্তী শহর পোর্ট সুদান এতদিন জাতিসংঘের অফিস ও বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল।

তবে রবিবার থেকে সেখানে ড্রোন হামলা শুরু হয়। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ)। 

সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বুধবারের ড্রোন হামলা বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে পড়ে। শহরের উত্তরে ফ্লেমিঙ্গো ঘাঁটি থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

রাতে ড্রোন প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই পরিস্থিতির মধ্যে, প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইরিত্রিয়ার সীমান্তের কাছে কাসালায় সেনা-নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরেও তিনটি ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয় বলে জানায় একটি নিরাপত্তা সূত্র। আরো হামলার শিকার হয়েছে উত্তর রাজ্যের মেরো নগরী ও আটবারা শহর। এদিকে আটবারায় একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার ফলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং কলেরা ছড়ানোর ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ‘এই ড্রোন হামলা শুধু বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বাড়ায়নি, বরং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে মানবিক সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে।’

বর্তমানে সুদানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছে এবং কিছু অঞ্চলে ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘ একে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি বলে অভিহিত করেছে।

এদিকে, সেনা-সমর্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পোর্ট সুদানে হামলাকে ‘সম্পূর্ণ আগ্রাসনমূলক অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং ‘কৌশলগত ড্রোন ও উন্নত অস্ত্রের’ ব্যবহার নিয়ে আমিরাতকে দায়ী করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আমিরাত তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, ‘এই সিদ্ধান্ত এমন একটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসেছে যারা সুদানের বৈধ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত ও প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধ দেশটিকে কার্যত দুইভাগে ভাগ করেছে—সেনাবাহিনী পূর্ব, উত্তর ও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করলেও পশ্চিম ও দক্ষিণে দখল করেছে আরএসএফ।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply