ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের মধ্যে গাজা উপত্যকায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই দুঃসহ অবস্থায় লুটপাটের অভিযোগে ছয় ফিলিস্তিনিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে হামাস। এ ছাড়া আরো ১৩ জনকে পায়ে গুলি করে আহত করা হয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে আরো অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
সিএনএনের গাজা প্রতিনিধিরা জানান, গত সপ্তাহ থেকে সশস্ত্র গ্যাংগুলো রাস্তায় নেমে পড়েছে, যারা বেঁচে থাকার জন্য খাবারের খোঁজে লুটপাট চালাচ্ছে এবং হামাসের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে।
হামাস দাবি করেছে, এই গ্যাংগুলোর কিছু অংশ ইসরায়েলকে সহযোগিতা করছে। হামাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘যারা এই বার্তা অগ্রাহ্য করবে, তারা এর দায় সম্পূর্ণভাবে নিজের কাঁধে নেবে।’
প্রায় ১৮ মাসের যুদ্ধ ও বিধ্বস্ত অবকাঠামোর মধ্যেও গাজায় এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে হামাস।
বর্তমানে ২১ লাখ মানুষের এই উপত্যকায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রবল। ইসরায়েল গত ২ মার্চ থেকে গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ জারি করে, যার ফলে খাদ্য, ওষুধসহ সব মানবিক সহায়তা বন্ধ রয়েছে।
গাজার নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগ প্রধান ডা. আহমদ আল-ফাররা জানিয়েছেন, ‘বর্তমান মানবিক সংকট অব্যাহত থাকলে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর ব্যাপক ঢেউ দেখা দিতে পারে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বারশ জানান, শনিবার গাজার আল-রানতিসি হাসপাতালে দুই মাস বয়সী সালেহ আল-সাকাফি অপুষ্টিতে মারা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মানবিক সহায়তা নিয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে। এই সহায়তা পরিচালনায় একটি বেসরকারি ফাউন্ডেশন কাজ করবে বলে জানান তিনি, তবে প্রকল্পের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রকাশ করেননি।
২০০৭ সালে গাজার শাসনভার গ্রহণের পর থেকে হামাস বহু ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যাদের অনেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রবিবার জানায়, গাজা আক্রমণ আরো জোরদার করতে চলতি সপ্তাহে ‘দশ হাজারের বেশি রিজার্ভ সেনাকে’ ডাকার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।






