আন্তর্জাতিক

খাবার দোকানে লুট, বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিল হামাস

ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের মধ্যে গাজা উপত্যকায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই দুঃসহ অবস্থায় লুটপাটের অভিযোগে ছয় ফিলিস্তিনিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে হামাস। এ ছাড়া আরো ১৩ জনকে পায়ে গুলি করে আহত করা হয়েছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে আরো অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

সিএনএনের গাজা প্রতিনিধিরা জানান, গত সপ্তাহ থেকে সশস্ত্র গ্যাংগুলো রাস্তায় নেমে পড়েছে, যারা বেঁচে থাকার জন্য খাবারের খোঁজে লুটপাট চালাচ্ছে এবং হামাসের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে।

হামাস দাবি করেছে, এই গ্যাংগুলোর কিছু অংশ ইসরায়েলকে সহযোগিতা করছে। হামাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘যারা এই বার্তা অগ্রাহ্য করবে, তারা এর দায় সম্পূর্ণভাবে নিজের কাঁধে নেবে।’

প্রায় ১৮ মাসের যুদ্ধ ও বিধ্বস্ত অবকাঠামোর মধ্যেও গাজায় এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে হামাস।

গোটা উপত্যকায় খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার রাতে হাজার হাজার মানুষ গাজা শহরের একাধিক জাতিসংঘ অফিস ও গুদামঘরে ঢুকে পড়ে, খাবারের সামান্য অবশিষ্ট অংশ খুঁজে পাওয়ার আশায়। কেউ কেউ ময়দা বা টিনজাত খাবার খুঁজতে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের চোখে  সব ঘটনা ধরা পড়ে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হামাস শনিবার দাবি করে, ‘অপরাধী ও দখলদারদের দোসর একদল লোক নাগরিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে।’

বর্তমানে ২১ লাখ মানুষের এই উপত্যকায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রবল। ইসরায়েল গত ২ মার্চ থেকে গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ জারি করে, যার ফলে খাদ্য, ওষুধসহ সব মানবিক সহায়তা বন্ধ রয়েছে।

গাজার নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগ প্রধান ডা. আহমদ আল-ফাররা জানিয়েছেন, ‘বর্তমান মানবিক সংকট অব্যাহত থাকলে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর ব্যাপক ঢেউ দেখা দিতে পারে।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply