জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, সম্পূরক বৃত্তিসহ তিন দফা দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন। অনশনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১০ মিনিটে প্রশাসনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৩১ ঘন্টা পর অনশন ভঙ্গ করেন তারা। অনশনরত শিক্ষার্থীদের জুস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, আগামী ২৭ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে আবাসন ভাতা পাবে শিক্ষার্থীরা এবং নভেম্বরে শিক্ষার্থী যাচাই-বাছাই হবে। পাশাপাশি ২৭শে নভেম্বরের আগেই কেন্দ্রীয় পাঠাগারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপন করার ঘোষণা দেয় প্রশাসন।
এ সময় অনশনকারী শিক্ষার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, আমাদের সব যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। জকসুর রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, আবাসন ভাতার প্রতিশ্রুত সময়ও দিয়েছে প্রশাসন। আমাদের তৃতীয় দাবি, কেন্দ্রীয় পাঠাগারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা আমাদের অনশন ভেঙে আন্দোলন প্রত্যাহার করছি।
ঘোষিত সময়ের মধ্যে যদি দাবি পূরণ না হয় তাহলে প্রশাসনকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে তিনি আরও বলেন, যদি প্রশাসন ঘোষিত সময়ের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সমস্ত দায় মাথায় নিয়ে সম্পূর্ণ প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে অনশন শুরু করে পাঁচ শিক্ষার্থী। বুধবার তাদের মধ্যে দুজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেদিন রাতে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে জুস খাইয়ে তাদের অনশন ভঙ্গ করান প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিগুলো-
১. শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি কবে থেকে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট করতে হবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
৩. ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকি প্রদান করে স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।






