অনিয়মের প্রমাণ মিললে হতে পারে আইনগত ব্যবস্থা, সনদ নিয়ে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি; দ্রুত পদক্ষেপের আশায় সংশ্লিষ্টদের নজর এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আবুরী মাগুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে আনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ গঠনকে সামনে রেখে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান চৌধুরী সভাপতি পদের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে আনারুল ইসলাম সভাপতি পদের যোগ্যতা হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ অনার্সের একটি সনদ জমা দেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সনদের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। যাচাই সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০০৩ শিক্ষাবর্ষের স্মারক নম্বর জাতীঃ/বিঃ/পরীঃ/সনদ ৪৪৯/২০০৫/১০৪৮১ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০২৮২৪৭৪-এর সনদের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির যোগ্যতা, সততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত সরাসরি জড়িত।
বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়া ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা হয়। তাই কোনো ধরনের বিতর্ক বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেটির স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বশীল ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নির্ভর করে তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর। তাই ব্যক্তিগত প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করাও সঠিক নয়। তদন্তে সত্য বেরিয়ে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক আমাদের সমাচার অনলাইন মাল্টিমিডিয়ার প্রতিনিধিকে বলেন, “জাল সনদের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই তথ্য সঠিক নয়। আমি এখন গাড়িতে আছি, গাড়ি থেকে নেমে আপনার সঙ্গে কথা বলব।”
প্রচলিত আইন অনুযায়ী জাল সনদ তৈরি, ব্যবহার বা প্রতারণার মাধ্যমে কোনো পদ বা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারা (জালিয়াতি), ৪৬৮ ধারা (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি) এবং ৪৭১ ধারা (জাল দলিল ব্যবহার) অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজ বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি সনদ সংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে কি না, নাকি বিতর্কিত অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম প্রশ্নের মুখে পড়বে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।






