সারাদেশ

বীর মুক্তিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেট মোন্তাজ মোল্লার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অ্যাথলেট মোঃ মোন্তাজ মোল্লার ৫ ম মৃত্যুবার্ষিকী গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

মরহুম মোঃ মোন্তাজ মোল্লা ছিলেন একাধারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক সেনা সদস্য এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক গৌরবোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব।
তিনি ১৯৫৩ সালের ৭ মার্চ দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার দৌলতপুর কাজীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
যুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালের ৩ জুলাই তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের ১৬ নভেম্বর তিনি সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।
তাঁর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নম্বর ১৪৪৫, মুক্তি বার্তা নম্বর ০৩০৮০৭০০১০ এবং সেনা সদস্য নম্বর ৩৯৫২৯৪৭ (টিএস নং ১৪৪৪২ ইবি)।
সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এশিয়ান গেমস, অলিম্পিক গেমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

দেশের বাইরে বিভিন্ন রাষ্ট্রে গিয়ে তিনি অ্যাথলেটিক্সের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেন।
তিনি হ্যামার থ্রো, শট পুট, ডিসকাস থ্রো, হাই জাম্প ও লং জাম্পসহ বিভিন্ন শক্তি ও সাহসনির্ভর ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জন করেন। তাঁর এই ক্রীড়া নৈপুণ্য, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম তাঁকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি খেলাধুলার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি আদমজী জুট মিলের অ্যাথলেটিক্স কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের ২ নম্বর অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে কোচ হিসেবে কাজ করেন।
জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে কাজ করে গেছেন।
মরহুমের স্মৃতিকে ধরে রাখতে তাঁর নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে “মোন্তাজ স্মৃতি ফুটবল স্পোর্টিং ক্লাব” এবং “মোন্তাজ স্মৃতি পাঠাগার”।
ফুটবল ক্লাবটি পরিচালনা করছেন তাঁর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ ইমরান মোল্লা এবং পাঠাগারটি পরিচালনা করছেন তাঁর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস শাহীন।
তাঁর বিজয় পদক সংরক্ষিত রয়েছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন ক্রীড়া পল্লীতে এবং তাঁর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, মো. মোন্তাজ মোল্লা শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা বা ক্রীড়াবিদ নন, তিনি এলাকার গর্ব।
তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
৭ নম্বর সেক্টরের একজন যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসী সৈনিক ছিলেন এবং একই সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গনে দেশের পতাকা উঁচু করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তিনি এলাকার অহংকার।
তাঁর পরিবারের উদ্যোগে পরিচালিত ক্লাব ও পাঠাগার তরুণদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা রাখছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহযোদ্ধা, ক্রীড়াবিদ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, মরহুম মো. মোন্তাজ মোল্লা ছিলেন এমন একজন বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, সেনাবাহিনীতে দেশসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বক্তারা তাদের বক্তব্য শেষ করেন।
পরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।

Leave a Reply