ঢাকার সাভারে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদনের অভিযোগে চারটি কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পরিবেশগত বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং স্থাপনাগুলো আংশিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই কিছু কারখানায় পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদন করা হচ্ছিল। এতে এলাকাজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া, তীব্র দুর্গন্ধ এবং বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল। এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে Department of Environment, Bangladesh এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পান, কারখানাগুলো পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদনের ফলে বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, ডাইঅক্সিন ও ফিউরানসহ মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পড়ে, যা শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এসব দূষণ মাটি ও পানির গুণগত মান নষ্ট করে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সমাজবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদি লাভের উদ্দেশ্যে পরিবেশবিধি উপেক্ষা করে পরিচালিত এ ধরনের অবৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানীয় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি জনজীবনের স্বাভাবিকতা ব্যাহত করে, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করে। তাই পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
মানবাধিকারবিদদের মতে, নিরাপদ ও দূষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অবৈধভাবে পরিবেশ দূষণ করে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও নিয়মিত নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান।
পরিবেশবিদ, সমাজবিদ ও মানবাধিকারবিদদের অভিমত অনুযায়ী, অবৈধভাবে টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদন শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের ওপরও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। তারা নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিযানের পর এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানার কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে তারা চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের এ পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অবৈধ দূষণকারী কারখানা গড়ে উঠতে না পারে।
Home » সাভারে অবৈধ টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদনকারী চার কারখানা ভেঙে দিল পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত
সাভারে অবৈধ টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদনকারী চার কারখানা ভেঙে দিল পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আলোচিত সেই কৃষক কবির হোসেন আর নেই
জুন ২৩, ২০২৬
গাংনীতে এক রাতেই ৬ ট্রান্সফরমার চুরি
জুন ২৩, ২০২৬






