সারাদেশ

গভীর রাতে সিলিকা বালু পাচারকালে ট্রাক জব্দ, চালক কারাগারে

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে উত্তোলিত সিলিকা বালু পাচারের সময় একটি ট্রাকসহ চালককে আটক করে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—এই বালু লুটচক্রের মূল হোতারা এখনো অধরা, আর তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৬ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর এলাকার নিশান অফিস সংলগ্ন সড়কে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌফিক আনোয়ার। অভিযানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রাতের অন্ধকারে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘনশ্যামপুর এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা প্রায় ৩ হাজার ঘনফুট অবৈধ সিলিকা বালু জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে সেই বালু সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে অভিযান চালিয়ে বালুভর্তি ট্রাকসহ চালক মো. নূর রহমান (৩৫)-কে হাতেনাতে আটক করা হয়।
মোবাইল কোর্টে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ১১ লঙ্ঘনের অপরাধে একই আইনের ১৫(১) ধারায় ট্রাকচালক নূর রহমানকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তিনি মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বেজোড়া গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ বালু লুটচক্র উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর, কালিশিরী, আমু চা বাগান, নালুয়া চা বাগান এবং গাজীপুর ইউনিয়নের মুহুরী ছড়া ও ইছালিয়া ছড়া এলাকা থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন করে আসছে। পরে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গালিব চৌধুরী বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ট্রাকচালককে শাস্তি দিয়ে মূল হোতাদের আড়াল করা হচ্ছে—যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই সিন্ডিকেটের মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply