দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রংপুর–দিনাজপুর মহাসড়কের রানীরবন্দর এলাকায় ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইক উল্টে চালকসহ ৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ডাম্প ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ট্রাকটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় এবং মহাসড়কে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রানীরবন্দর সুইহারী বাজার থেকে একটি ইজিবাইক যাত্রী নিয়ে দশমাইলের দিকে যাচ্ছিল। তেগআলী শাহ মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ডাম্প ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইক ও পাশে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইজিবাইক চালক রায়হান আলী (৩৫), মোত্তালেব হোসেন (৫৫), গুলিয়ারা বেগম (৫০), বাঁধন, সুরেশ চন্দ্র রায় (৬০), ইয়াসমিন (১৮) ও শিশু আনিছা খাতুন (২)। তাদের দিনাজপুর ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পরপরই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলেন, মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।
মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, দুর্ঘটনার পর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের দুর্ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালনা এবং ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। তাদের মতে, মহাসড়কে আলাদা লেন ব্যবস্থা, কঠোর ট্রাফিক নজরদারি ও নিয়মিত চালক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেহা তুজ জোহরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আইন নিজের হাতে না নেওয়ার অনুরোধ করেন। চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদন্নবী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।






