দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী আমবাড়ি গরু-ছাগলের হাটে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন এই হাটে। সকাল থেকে ক্রেতাদের ভিড়ে পুরো বাজার এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে।
হাটে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের দেশি ও বিদেশি জাতের গরু, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। দরদাম আর ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারের ভেতরের কাদাময় পরিবেশ এবং প্রবেশ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একজন খামারি বলেন, “সারাবছর কষ্ট করে গরু পালন করি। এবার পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু হাটের ভেতরের পরিবেশ খুবই খারাপ। কাদা আর ভাঙা রাস্তায় গরু আনা-নেওয়া করতে সমস্যা হচ্ছে।”
একজন ক্রেতা বলেন, “আমবাড়ি বাজারে সাধারণত ভালো গরু পাওয়া যায় বলেই এখানে আসি। তবে এবারের পরিস্থিতি ভালো না। হাঁটাচলায় অনেক কষ্ট হচ্ছে, বিশেষ করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এই হাটটি ঐতিহ্যবাহী হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে কোরবানির ঈদকে ঘিরে হাটজুড়ে ধর্মীয় আবহও বিরাজ করছে। স্থানীয় এক ইসলামিক বক্তা বলেন, “কোরবানি মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু পশু জবাই নয়, বরং ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা দেয়। সামর্থ্যবানদের উচিত সঠিক নিয়মে কোরবানি আদায় করা এবং অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।”
কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী আমবাড়ি হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মোঃ সাবিদ হোসেন






