সারাদেশ

বাসস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ককটেল ফাটিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে ঢাক-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডের কর্মচারী মো. মিজান বলেন, রিফাত মোল্লার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল তোলা হলে ১০০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে আসছিলো। এ বিষয়ে কেউ বাধা দিতে গেলে রিফাত মোল্লাসহ তার লোকজন অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতো। দুপুরে রিফাত মোল্লার লোকজন বাসস্ট্যান্ডে আমাদের কাউন্টারে ভাঙচুর করলে কাউন্টারের সবাই এগিয়ে আসে। এসময় সংঘর্ষ বাধে।

অভিযোগ অস্বীকার করে রিফাত মোল্লা বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার লোকজনের ওপর হামলা করেছে বাসস্ট্যান্ডের কিছু বিএনপি নেতা। ওই স্ট্যান্ডে আমার একটি কাউন্টার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল আমাকে কাউন্টার ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলো। সর্বশেষ বুধবার আমার কাউন্টারের কর্মচারীরা দুটি মোটরসাইকেলে করে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে সেখানে মো. বিশালের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশের সামনে বিএনপির নামধারী মেহেদী হাসান সম্রাট ও জহিরুল ইসলামসহ ২০-৩০ আমাকে ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়। হামলাকারীরা বাসস্ট্যান্ড থেকে আমার দুটি দামি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, আমার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আমি নিজেও জেল খেটেছি।

এদিকে সংঘর্ষের খবরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বন্ধে অনেক আগেই পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, রিফাত মোল্লাই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং তিনি দলের কেউ নন। কেরানীগঞ্জে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান হবে না বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের এ ঘটনায় বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।বাসস্ট্যান্ড দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষের ঘটনায় বিশাল নামে এক ব্যক্তি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply