বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. রফিকুল ইসলাম জামালের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির কাঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তিনি নির্বাচনী স্বার্থে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে এক মঞ্চে বসে বক্তব্য দিয়ে দলীয় আদর্শের পরিপন্থী কাজ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কাঠালিয়া উপজেলার ৫ নং শৌলজালিয়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত একটি সভায় মো. রফিকুল ইসলাম জামাল স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে পাশে বসিয়ে বক্তব্য দেন এবং কাঠালিয়া-রাজাপুর এলাকার সকল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তার সাথে থাকার আহ্বান জানান। এ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই উপজেলা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ বক্তব্যকে অসাংগঠনিক, দলবিরোধী ও আত্মস্বার্থকেন্দ্রিক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
কাঠালিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জাকির হোসেন পান্না মুন্সী বলেন,
গত প্রায় ১৫ বছর ধরে আমরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার। মিথ্যা মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড, কারাভোগ—সবই সহ্য করেছি। পরিবার ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। সেই নির্যাতনের স্মৃতি আমরা ভুলে যাইনি। আজ যারা ভোটের স্বার্থে সেই নির্যাতনকারীদের নিয়ে রাজনীতি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, আমরা বেঁচে থাকতে কোনো আওয়ামী দোসরকে কাঠালিয়ার বিএনপিতে স্থান দেওয়া হবে না। ধর্ম সম্পাদক জামালের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা গোলাম আজম সৈকত বলেন,
ধর্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এই বক্তব্যের দায় বিএনপি দল হিসেবে নিতে পারে না। তার এই লাগামহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তিনি অবিলম্বে কাঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের আশ্রয়দাতা হিসেবে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার নৈতিকতা হারিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
দলীয় সূত্র জানায়, মো. রফিকুল ইসলাম জামাল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ঝালকাঠি-১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য থাকার কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক নথি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবুও সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, দলের ভেতরে ঐক্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। এ ঘটনায় জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।






