সারাদেশ

সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দ্বিতীয় দিনের মতো সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মেডিকেল মোড় গোলচত্বর এলাকায় সার বিক্রয়কেন্দ্র ‘মেসার্স ওয়াছেক খান’-এর সামনে লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে কৃষকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

কৃষকেরা জানান, লালমনিরহাট জেলার ব্র্যান্ড পণ্য ভুট্টা। বর্তমান মৌসুমে ভুট্টা চাষ শুরু হলেও সার সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। গত সপ্তাহে সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকেরা একই দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি পেলেও কাঙ্ক্ষিত সার না পাওয়ায় আবারও তারা সড়ক অবরোধে নামেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা সদরের সিন্দুর্না ইউনিয়নে বিসিআইসির পরিবেশক মেসার্স ওয়াছেক খানের সারঘর থেকে কয়েক দিন ধরে কৃষকেরা ঠিকমতো সার পাচ্ছিলেন না। বিক্রয়কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রোববার সকালে সিন্দুর্নার কৃষকদের সার দেওয়া হবে। এ ঘোষণায় ভোর থেকেই কৃষকেরা ভিড় জমান। মুহূর্তে দীর্ঘ লাইন গড়ে ওঠে। কিন্তু কয়েকজনকে সামান্য সার দেওয়ার পর হঠাৎ বিক্রয়কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে- উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, তানজিলা আক্তার ও গোবিন্দ কুমারের সহযোগিতায় পরিবেশক সারগুলো খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা পরিবেশক ও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা এবং সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর ইসলাম ঘটনাস্থলে যান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পর্যাপ্ত সার সরবরাহের আশ্বাস পেলে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন।

চর সিন্দুর্না গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, “১৪ দোন জমির জন্য ইউরিয়া দরকার। কয়েক দিন ধরে ঘুরছি—তবু সার পাইনি। আজও শূন্য হাতে ফিরতে হলো। কৃষি অফিসের লোকজনের সহযোগিতায় বাইরে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে।”

আরেক কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, “ডিলারের কাছে বারবার গেলেও সার পাওয়া যায় না। খুচরা বাজারে বেশি দামে দিচ্ছে। এই দুর্নীতি আর চলতে পারে না। ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তাদের অপসারণ চাই।”

কৃষক শামসুল আলম বলেন, “এখনই ভুট্টা খেতে সার দেওয়ার সময়। আজ–কালকের মধ্যে সার না পেলে রোপণই সম্ভব হবে না। আমার মতো অনেকেই সার পাচ্ছে না। এই মৌসুমে ভুট্টার আবাদ কী হবে আল্লাহই জানেন।”

মেসার্স ওয়াছেক খানের স্বত্বাধিকারী মো. ওয়াছেক খান মুঠোফোনে বলেন, “কৃষি অফিসের লোকজন ছাড়া সার বিক্রি করা হয় না। আমার ছেলেরা ব্যবসা দেখাশোনা করে। আমি সবকিছু জানি না।”

হাতীবান্ধা উপজেলা বীজ–সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ইউএনও শামীম মিঞা বলেন, “ভুট্টার মৌসুম হওয়ায় একসঙ্গে অনেক কৃষক সার কিনতে আসায় মজুদ কমে গেছে। কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনলে সমস্যা হতো না। আমরা কৃষক পর্যায়ে কমিটি করেছি—তারা চাহিদা বিবেচনা করে সহায়তা করবে। আশা করি, আগামী সপ্তাহে চাপ কমে যাবে।”

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply