সারাদেশ

মাদক ও অপরাধের অভয়ারণ্য কাউন্দিয়া ইউনিয়ন

ঢাকার অদূরে সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে।  তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের খুব একটা তৎপরতা নেই। দিনে দিনে মাদকের স্বর্গরাজ্য পরিণত হচ্ছে কাউন্দিয়া ইউনিয়ন।

মাঝে মধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনী এ ব্যাপারে তৎপরতা দেখালেও কতিপয় নাম ধারি সাংবাদিক ও অসাধু কিছু পুলিশ সদস্যদের  সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতার কারণে মূল হোতারা রয়ে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।  ফলে মাদকের করাল গ্রাসে আজ ধ্বংসের পথে গোটা কাউন্দিয়া ইউনিয়নের যুবসমাজ।  স্কুল কলেজের ছাত্রদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি’পেশার মানুষেরা ভয়াবহ ভাবে  আসক্ত হয়ে পড়ছে মাদকের এ মরণ নেশায়।  মাদক সেবনের কারণে সর্বোচ্চ বিপথগামী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে নেশার টাকা সংগ্রহ করতে অনেক সময় তারা চুরি, ছিনতাই,খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
মাদক সেবিদের এই সকল অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কাউন্দিয়া সচেতন সমাজের অভিভাবকরা।
মাদকের  করাল এ গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে কাউন্দিয়াবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট জোর দাবী জানালেও।
পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়, সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এমনটাই জানালেন সাভার মডেল থানা অন্তর্ভুক্ত কাউন্দিয়া ফাঁড়ি ইনর্চাজ কাজী আব্দুর রহিম ।

তিনি বলেন, আমি কাউন্দিয়া ফাঁড়ী ইনচার্জ হয়ে যোগদান করার পর থেকে। গত আট মাসে শুধু কাউন্দিয়া ইউনিয়ন থেকে  ৬০ থেকে ৭০ টা মাদকের মামলা সংশ্লিষ্ট থানায় নথিভুক্ত হয়েছে।  তিনি আরো বলেন মাদকের বিরুদ্ধে আমার জিরো টলারেন্স আমার দায়িত্বরত এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করতে আমি সদা সোচ্চার।

শুধু মাঝে মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার করলে আমাকে একটু বেগ পেতে হয় কারণ। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একটি চক্র  গ্রেপ্তার কৃত মাদক ব্যবসায়ী ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে ফোন দিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে।

এই সকল সুবিধা ভোগী সাংবাদিকরা আমার নিকট এক লক্ষ্য টাকা চাঁদা দাবী করার পাশাপাশি,আমাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিথ্যাচার করে আসছে আমার কাছে টাকা দাবী করা ও আমাকে নিয়ে  মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর বিষয়ে নিয়ে আমি আমার কাছের কিছু সাংবাদিক ভাইদের জানালে তারা বলেন বিষয়টি আমার দেখব।

যেখানে আমার নিকট এরা টাকা দাবী করেছ সেখানে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেমন সুবিধা নেন তারা একবার ভেবে দেখুন।
কাউন্দিয়া ফাড়ি ইনচার্জ কাজী আব্দুর রহিমের নিকট ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হলে তারা প্রতিবেদ কে বলেন।

ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রহিমের নানান দুর্নীতি অনিয়মের সংবাদ প্রচার করায় তিনি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদা দাবীর অভিযোগ করছেন। তার কাছে আমরা চাঁদাদাবী করেছি তার এই বক্তব্যটুকু ম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তিনি উদ্দেশ্য প্রণীতভাবে সমাজে আমাদেরকে হেও প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে এই সব মিথ্যাচার করছেন। এদিকে কাউন্দিয়ার মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয় নিয়ে একাধিক স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা দৈনিক আমাদের সমাচার প্রতিনিধি’কে বলেন।

কতিপয় সাংবাদিক ও পুলিশের ছত্র-ছায়ায় অত্র এলাকা জুড়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য।  কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ও সংশ্লিষ্ট থানার অসাধু কিছু পুলিশ কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের মাসোহারা নেয়ার ফলে এ সকল মাদক ব্যবসা এখন কাউন্দিয়া ইউনিয়নে ওপেন সিক্রেট।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে মাঝে মধ্যে ফাঁড়িতে কর্তব্যরত অফিসাররা ২-১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেও মাদক ব্যবহারকারীদের পরিবারের সদস্য ও সুবিধা ভোগী শুভাকাঙ্খী সাংবাদিকরা রাতের আধারে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

কাউন্দিয়া ইউনিয়নের এই সকল মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠি হয়ে পরেছে কাউন্দিয়াবাসী।  স্থানীয় অনেকেই বলেন গোটা কাউন্দিয়া ইউনিয়ন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।  মাদক নির্মূল করার লক্ষ্যে আমরা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও মাদকের বহিঃ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিনা।  এ বিষয়ে এলাকাবাসীরা প্রশাসনের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগীতা কামনা করেন।

তারা আরো বলেন গত মাসে স্থানীয়দের সহায়তায় কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ কাজী আব্দুর রহিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ। মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী’কে গ্রেফতার করলেও মামলা হয়েছে মাত্র তিনটি।

দৈনিক আমাদের সমাচার প্রতিবেদক মোঃ সজিবুর রহমানের সরোজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অত্র কাউন্দিয়া ইউনিয়ন জুড়ে ২২ থেকে টি গ্রাম যেখানে শতাধিক মাদকের স্পট রয়েছে।  এরমধ্যে, মেলারটেক, নয়া বাজার, সুদুরটেক, মাঝিরদিয়া, গোয়াল বাড়ী, পাচকানি, বুড়ির টেক, সিংঙ্গাসাইর, বাইদা পাড়া, পশ্চিম কাউন্দিয়া, মধ্য কাউন্দিয়া, টিকার টেক, পাহাড়ির টেক, বাকসাত্রা, জামাই মারা,
সহ আশপাশের এলাকায়। বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মাদকের স্পর্ট রয়েছে যেখানে ইয়াবা ট্যাবলেট বিভিন্ন কোড নম্বর ভেদে বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু কিছু এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা অভিনব কায়দায় শার্টের কলার ও হাতলের ভাঁজে, মানিব্যাগে, জুতার তলায় বিশেষ কায়দায় রাখা, দিয়াশলাই ও সিগারেটেরে প্যাকেটের ভিতরে রেখে খুচরা ইয়াবা ট্যাবলেট ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছে।

আবার মাদকের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠেছে অপরাধীর অভয়ারন্য হিসেবে।  আর এই সকল মাদকের স্পর্ট নিয়ন্ত্রণ করেছে
সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী মিজান, হাত কাটা বাবুল, কাজীমদ্দিন,টাইগার,মিজানের শ্যালক মানুন বাবু,টিটু,আলী,সাকিল,সাইফুল,
সাদ্দাম,ফালান,হিরাসহ আর অনেকেই  মাদকের পাশাপাশি চুরি  ছিনতাই,ভূমি দখল দেহব্যবসাসহ নানারকম অপরাধের ঘটনা এ এলাকায় এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

অত্র এলাকার লোকজন এদের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হলেও প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না,হঠাৎ যদি কেউ সাহস করে এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ফেললে তার অবস্থা খুব একটা ভালো হয়না কারণ। পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতার থাকার কারণে প্রতিবাদী  ভুক্তভোগীদের আরও ভোগান্তিতে পরতে হয়।  এদের সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে আইনশৃংখলা বাহিনী এ সকল স্পটে হানা দেয়ার আগেই মাদক বন্ধক পুলিশ সদস্যরা পুলিশের অভিযানের খবর আগেই পৌঁছে দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট।  ফলে ব্যর্থ হয়ে ফিরেতে হচ্ছে অভিযানকৃত পুলিশ সদস্যদের । রাজধানীর মিরপুর ও গাবতলী লাগোয়া কাউন্দিয়া ইউনিয়ন তুরাগ নদিবেষ্ঠিত এসব গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা।  একারনে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা এ এলাকাকে নিরাপদ জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বতর্মান  চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকা মোহসিনুজ্জামন বলেন, মাদকের করাল গ্রাসে আমাদের যুব সমাজ দিন দিন ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরী করে আইনশৃংখলা বাহিনী’কে দেয়া হয়েছে  কাউন্দিয়াবাসি পাশাপাশি আমি আশা ব্যক্ত করছি মাদকের এ বিস্তার রোধে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের কর্তব্যরত কর্মকর্তারা  জোরালো পদক্ষেপ নিবেন। তিনি আরো বলেন। মাদক নির্মুল করা পুলিশের একার পক্ষে  সম্ভব নয়।  আমাদের সমাজ থেকে মাদক নির্মুল করতে হলে নিজ নিজ স্থান থেকে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

কাউন্দিয়ার মাদক ব্যবসা প্রসঙ্গে  Narkotics inspector Nusrat jahan এর সঙ্গে কথা হলে তিনি আমাদের সমাচার প্রতিনিধি কে
বলেন। কাউন্দিয়া ইউনিয়ন শুধুমাত্র মাদকের আখড়া নয় কাউন্দিয়া হচ্ছে অপরাধীদের অভায়রণ্য যেখানে বেশ কয়েক বছর আগে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব এর দুই কর্মকর্তা’কে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।  অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তার একটা বিষয় থাকে সেখানে নৌপথ ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা নেই তাছাড়া আমার জনবল কম ।
আর সত্যি বলতে দির্ঘদিন আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি তবুও ইতিমধ্যে আমরা একাধিক বার অত্র এলাকায়  রেকি করিয়েছি বতর্মানেও আমার লোকজন নজর রাখছেন আশা করছি  এ মাসে যেকোনো দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কাউন্দিয়ায় মাদকের আখড়া  নির্মূলের চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্।

Leave a Reply