কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একই চত্বরে অবস্থিত ট্রেসল ইংলিশ ভার্সন স্কুলের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। পানির সঙ্গে ভাসছে পচা আবর্জনা। দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার স্কুল কর্তৃপক্ষ দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।
আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, প্রতি বছর কিছুটা জলাবদ্ধতা হয়। তবে এবার পরিস্থিতি ভয়াবহ। নিচতলার সব শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে গেছে। এই অবস্থায় ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। আপাতত দুই দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে, রোববার থেকে পাঠদান শুরুর চেষ্টা করব।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, এলাকার চারপাশের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিয়াস জানায়, ময়লা পানির মধ্যে হেঁটে স্কুলে আসতে হয়। হাতে-পায়ে চর্মরোগ হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র প্রশোন আহমেদ তানিম বলেন, স্কুলে পানি জমে থাকায় ঠিকভাবে ক্লাস হচ্ছে না। প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করে দুই দিনের ছুটি নিয়েছি।
অভিভাবকরা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, আশপাশের এলাকায় ভবন নির্মাণের সময় মাটি ভরাট করায় পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা এলেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিস চৌধুরী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় বলেছি। এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ ও দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে রয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোনে পাওয়া না গেলেও একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতোমধ্যে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি জানা আছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






